গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার: গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ও কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে “বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ”।

বুধবার(১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হলেও এই কমিশনে এবারের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের শুনানি ও পরবর্তী সময়ে তাদের ভূমিকা জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারের পরিসংখ্যান মতে, চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি ঘটেছে ৫.৫ শতাংশ। সেখানে ১০২.৮৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ফলে মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তাও পরিসংখ্যানের বিষয়।

সিএনজি গ্যাসে ৪০.২৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব সড়কে শৃঙ্খল আনতে কাজ করে যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই তা খোঁজ খবর রাখছেন। সেখানে প্রস্তাবিত দাম সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খল অবস্থাকে উস্কে দিচ্ছে।

আবাসিক খাতে জ্বালানির সংকট চরমে, এর মধ্যে দেশের ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী এখনো রাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যাবহার করতে পারছে না। যারা পারছে তারাও নির্ধারিত দামের চাইতে কম গ্যাস ব্যাবহার করছে। গবেষকরা মনে করছেন, গ্যাসের দাম বাড়লে জিডিপি কমবে ২.৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমরা এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে পড়ব।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা এনার্জি কমিশনের কার্যক্রমকে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্য কারও পক্ষপাত করতে পারে না, অথচ শুনানি চলাকালে কমিশনের একজন সদস্য দাম বৃদ্ধির পক্ষে বক্তব্য প্রদান করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

কোম্পানিগুলো ২৯ জানুয়ারি ৬৬ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করলে কমিশন ১১ই মার্চ গণশুনানির  আয়োজন করেন। অথচ শুনানিতে অংশ নিয়ে আমরা জানতে পারলাম কোম্পানিগুলো ১০২.৮৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সংশোধন প্রস্তাবের উপর শুনানি করছে। নাগরিকদের সাথে এধরনের লুকোচুরি করলেও  বিইআরসি কোনো ব্যাবস্থা নেয়নি।

হাইকোর্ট ৩১ মার্চ তাদের রায়ে বলেছেন, কোম্পানিসমূহের দুর্নীতি ৫০ শতাংশ কমালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। এবং কমিশনকে দুর্নীতি তদন্ত করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু এই নির্দেশনা ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও কমিশন আজও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

জ্বালানি মন্ত্রীর গত ১১ই এপ্রিলের বক্তব্য “গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছি না, এটি সমন্বয় হচ্ছে। কারণ, কম দামে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ” মন্ত্রীর বক্তব্য একটি স্বাধীন কমিশনের উপর হস্তক্ষেপ বলে সাধারণ নাগরিক মনে করেন। অথচ কমিশন এখনো পযন্ত নির্বিকার।

এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল না রেখেই আমদানিকারক কোম্পানি ও পেট্রো বাংলার প্রস্তাবিত মূল্যের উপর ভর করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের উপর কমিশনের কোনো ভুমিকা না থাকা দুঃখজনক। সেই সাথে এলজিপি’র লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থার উদ্যোগ কমিশন এখন পর্যন্ত নেয়নি।

বক্তারা বলেন, এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশের নাগরিক মনে করে, এই কমিশন লোক দেখানো গণশুনানি করছে যা প্রমানিত। তাহলে কারি কারি অর্থ ব্যয় করে কমিশন রেখে লাভ কী?

নাগরিকরা কমিশনের উপর আস্থা রাখতে পারছে না অভিযোগ করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে সুরাহা করে দিয়ে দাম না বাড়ানোর পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে মানববন্ধনে অনুরোধ জানান বক্তারা।

এপ্রিল ১৭, ২০১৯ ৪:৩৫

(Visited 1 times, 1 visits today)