গোলাপি বলে ঐতিহাসিক টেস্ট হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: গোলাপি বলের দিবারাত্রির টেস্ট উপলক্ষ্যে গোটা কলকাতা শহর মেতেছিল উৎসবে। জয় কিংবা ড্র নয়, ইনিংস হার এড়ানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

তবে সেই লক্ষ্যে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে পারলেন না টাইগাররা। তৃতীয় দিন খেলার ১ ঘণ্টা না গড়াতেই অলআউট হলেন তারা। টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের প্রথম দিবারাত্রির ম্যাচটিতে আড়াই দিনও খেলতে পারল না মুমিনুল হকের দল।

বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যেতে পারতো দুইদিনেই। ভারতের দেয়া ২৪১ রানের লিডের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসেও মাত্র ১৩ রানে সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন ৪ ব্যাটসম্যান।

সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচটিকে তৃতীয় দিনে এনেছিলেন মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ।কিন্তু তৃতীয় দিন সকালে আর বেশিক্ষণ খেলতে পারেননি মুশফিক।

আগেরদিন অপরাজিত থাকা ৫৯ রানের সঙ্গে তিনি যোগ করতে পেরেছেন আর ১৫ রান। আউট হয়েছেন ৭৪ রানে। আর আগেরদিনই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে মাঠ ছাড়া মাহমুদউল্লাহ এদিন আর নামতেই পারেননি ব্যাট করতে।ফলে দলীয় ১৯৫ রানের মাথায় বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতন ঘটতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের ইনিংস ও ৪৬ রানের ব্যবধানে জয়।

তৃতীয় দিন সকালে বাংলাদেশ খেলতে পেরেছে মাত্র ৮.৪ ওভার তথা আধঘণ্টার কিছু বেশি সময়। মুশফিকের ৭৪ ছাড়াও ৫ চারের মারে ২১ রান করে পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমিয়েছেন আল আমিন হোসেন।

ভারতের পক্ষে বল হাতে ৫ উইকেট নিয়েছেন উমেশ যাদব। টেস্ট ক্যারিয়ারে তার দ্বিতীয় ফাইফার এটি। এছাড়া বাকি ৪ উইকেট নিয়েছেন প্রথম ইনিংসে ফাইফার নেয়া ইশান্ত শর্মা।

এ জয়ের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো ভারত। দুই ম্যাচেই তারা জিতেছে ইনিংস ব্যবধানে।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজেও দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল তারা। টেস্ট ইতিহাসে টানা চার ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জেতা একমাত্র দল এখন ভারত।

এতে ইনিংস ও ৪৬ রানে ঐতিহাসিক ইডেন টেস্ট হারল বাংলাদেশ। ২-০ ব্যবধানে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ জিতল ভারত।ঐতিহ্যবাহী ইডেনে গোলাপি বলে দিবারাত্রির ঐতিহাসিক টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

দলের ৮ ব্যাটসম্যানই ২ অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। ০ মারেন তিন ‘ম’ মুশফিক-মুমিনুল-মিঠুন। সর্বোচ্চ ২৯ করেন ওপেনার সাদামান। আর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরা লিটন করেন ২৪ রান।

ভারতের হয়ে ইশান্ত শার্মা নেন সর্বাধিক ৫ উইকেট। উমেশ যাদব শিকার করেন ৩ উইকেট। আর মোহাম্মদ শামি ঝুলিতে ভরেন ২ উইকেট।

ঢা/তাশা

(Visited 1 times, 1 visits today)