কোভিড-১৯ ট্রিটমেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় তৈরিকৃত ড্রাগের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

ঢাকা১৮ ডেস্ক: কোভিড-১৯ ট্রিটমেন্ট আবিষ্কৃত ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস্ ট্রাইবুন্যাল।

কিন্তু শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থ এবং যাদের সম্মতি দেয়ারও ক্ষমতা নেই তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে ট্রাইবুন্যাল।

এবং ট্রাইবুন্যাল এ-ও বলেছে রোগীর বেস্ট ইন্টারেস্ট বিবেচনায় এবং ঝুঁকির মাত্রা সর্বনিম্নে নিশ্চিত করে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

কোর্ট এপ্রিলে সিদ্ধান্ত নিলেও এ সপ্তাহে প্রকাশিত হলো। নিউ সাউথ ওয়েলস্ সিভিল এন্ড এ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ ট্রাইবুন্যাল একমাত্র লিভারপুল হাসপাতালের আইসিইউতে এবং এ্যাডাল্ট এবং নিশ্চিত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে যারা আবার Acute Respiratory Distress Syndrome (ARDS) এ রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে।

কিন্তু নিউ সাউথ ওয়েলসে করোনা আক্রান্ত হয়ে এই ধরনের সিনড্রোম নিয়ে আইসিইউতে রোগী নাই বললেই চলে। গবেষকগন রীতিমত প্রয়োজনীয় ১৬০ জনের স্যাম্পল পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কোর্ট অবশ্য সন্দেহাতীতভাবে মনে করছে নতুন ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ প্রটোকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সর্বাধিক স্বার্থ সংরক্ষণ করবে।

যেসমস্ত রোগী এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নির্বাচিত হবেন তাদের ক্রাইটেরিয়া হবে: তারা গুরুতরভাবে অসুস্থ, তারা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত, রোগী নিজে সম্মতি দেয়ার ক্ষমতা বা অবস্থায় নেই, রোগী মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে।

ওষুধটি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গবেষকগন তৈরী করেছেন এবং এটি হচ্ছে STC3134। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা অনুমোদন নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গবেষকগন ইতোমধ্যে ৪৮ জন সুস্থ এবং স্বাস্থবান স্বেচ্ছাসেবীকে এই ওষুধ প্রয়োগ করেছেন এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোভিডে আক্রান্ত গুরুতর শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত কারণে মৃতপ্রায় রোগীকে বাঁচানো যায় কি-না।

গার্ডিয়ানশিপ এ্যাক্টের অধীনে সিভিল এন্ড এ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ ট্রাইবুন্যাল একেবারেই সীমিতাকারে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে সমস্ত রোগী সম্মতি প্রদানে অপারগ তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগের অনুমোদন দিবে।

তবে ট্রাইবুন্যালকে নিশ্চিত হতে হবে, অর্থাৎ কনভিন্সড হতে হবে যে ওষুধ প্রয়োগে কোনো সাবস্ট্যানশিয়াল ঝুঁকি নাই। ট্রাইবুন্যাল আরও নিশ্চিত হতে চাইবে যে গবেষকগন ওষুধ তৈরী করতে নিশ্চিতভাবে নিরাপদ স্তরে রয়েছে এবং এথিকাল স্টান্ডার্ড অনুসরন করেছেন।

অবশ্য গবেষকগন কোর্টের এই ওষুধ প্রয়োগে সুবিধার দিকগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। কোর্টেকে আরও জানিয়েছেন যে ওষুধ প্রয়োগে দ্রুত শ্বাসকষ্ট লাঘব হবে এবং এআরডিএস থেকে সৃস্ট জটিলতা নিরসন করবে। গবেষকগন রোগীর বেটার সার্ভাইবাল রেটের ব্যাপারেও কোর্টকে নিশ্চিত করেছেন।

২১ এপ্রিল ২০২০ অবশ্য সাউথ ওয়েস্টার্ন লোকাল হেল্থ ডিস্ট্রিক্টের হিউম্যান রিসার্চ এথিকস্ কমিটি এই ওষুধের পরীক্ষণমূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে।

ইতোমধ্যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে অনেকগুলো গবেষনা হয়েছে। যদিও পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগে রোগীর সম্মতি জরুরী কিন্ত এক্ষেত্রে সম্ভব নয় বলে কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ভালোর দিকটা ঝুঁকির পরিমানের থেকে বেশি হতে হবে।

ঢা/মমি

(Visited 1 times, 1 visits today)