কোভিড-১৯ এবং বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডল দূষণ

কোভিড-১৯ এবং বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডল দূষণ, ছবিঃ The Gurdian

মোঃ শফিকুল আলমঃ এই সময়ে ভেনিসের ক্যানেলের পরিষ্কার পানিতে ডলফিন বা রাজহাঁস সাঁতার কাটতে আসেনি যদি কেউ বলে তবে তা’ ডাহা মিথ্যে বলবে।

নতুন গবেষনা যে সত্য উদঘাটন করেছে তা’হচ্ছে করোনার নিষ্পেষণে অনেকটাই স্থিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পৃথিবীর ভূমণ্ডল এবং বায়ুমণ্ডলকে দৃশ্যমানভাবে প্রভাবিত করেছে (ইতিবাচকভাবে)।

এই প্রভাব নিরূপণে হাজার হাজার এয়ার কোয়ালিটি স্টেশন থেকে স্যাটালাইট চিত্র এবং তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।

ইউরোপিয়ান গবেষকগন দেখতে পেয়েছেন বাতাস দূষণ ২০% কমে গেছে। ভূমিতলের নাইট্রজেন ডাইঅক্সাইড (NO2), সাধারনত গাড়ীগুলো নি:সরন করে থাকে, ওজন (O3) এবং ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM2.5) ইত্যাদি একই হারে কমিয়ে বাতাসকে বিশুদ্ধ করেছে

ছবিঃ Architect
ছবিঃ Architect

এবং পৃথিবীব্যাপী ২৭ টি দেশে লকডাউনের দু’সপ্তাহের মধ্যেই তা’ হয়েছে। এমনকি অস্ট্রেলিয়াতে এখন বায়ুতে সামান্য বা নাম মাত্র নাইট্রজেন পাওয়া যাচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক গবেষনা সাইট medRxiv এ গবেষনাপত্রটি রয়েছে প্রকাশিত হওয়ার নিমিত্তে।

সাধারনত কোনো গবেষনাপত্র প্রকাশের পূর্বে একই ফিল্ডে অভিজ্ঞদের মতামত যাচাই এর জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গবেষনা সাইটে আপলোড করতে হয়। এবং যেকোনো গবেষনার ফগবেষনার ফলাফল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

বৈজ্ঞানিক গবেষনা সাইট medRxiv এ গবেষনাপত্রটি রয়েছে প্রকাশিত হওয়ার নিমিত্তে। সাধারনত কোনো গবেষনাপত্র প্রকাশের পূর্বে একই ফিল্ডে অভিজ্ঞদের মতামত যাচাই এর জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গবেষনা সাইটে আপলোড করতে হয়। এবং যেকোনো গবেষনার ফলাফল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

ছবিঃ The Sun
ছবিঃ The Sun
গবেষকগন বলেন যে এই দু’সপ্তাহে (গবেষনা পিরিয়ড) ৭,৪০০ জনের সম্ভাব্য মৃত্যু ঠেকানো গেছে এবং ৬,৬০০ জন পেডিয়াট্রিক অ্যাজমা কেস এড়ানো গেছে।

গবেষকগন আরও বলেন যে যদি এই বায়ুদূষণ পুরো ২০২০ সাল পর্যন্ত অব্যাহতভাবে বন্ধ থাকে তবে পৃথিবীব্যাপী সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যাবে ৭৮০,০০০।

গবেষকগন লিখেছেন, “আমরা কোনো মতেই বলছিনা যে বৈশ্বিক মহামারী বিশ্বস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু বর্তমানের আয়নায় বিশ্ব বায়ুদূষণ মহামারী চিত্রটি স্পষ্টত: দৃশ্যমান।”

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজীর ডিপার্টমেন্ট অব আর্থ এন্ড এ্যাটমোসফেরিক সায়েন্স এর চলোমান প্রধান অধ্যাপক জোরান রিসটোভসকি বলেন যে স্যাটেলাইট চিত্রের ডাটা অনুযায়ী ট্রাফিক পলিউশন কম থাকায় হান্টার ভেলী এবং গ্লাডস্টোন এরিয়া যেখানে কয়লা চালিত পাওয়ার জেনারেশন হয়ে থাকে সে জায়গাগুলোতে বায়ুতে নাইট্রজেনের পরিমান অনেক কম।
ছবিঃ The Sun
ছবিঃ The Sun
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের গবেষনায় অনেক অনিশ্চয়তা কাজ করে। কিন্ত স্বল্প সময়ে আমরা প্রধান প্রধান দূষণকারী উপাদনগুলির পরিষ্কারভাবে কমতি দেখেছি।”

বিশেষ করে PM2.5 ফাইন পার্টিকেলস যা’ ২.৫ মাইক্রনের থেকেও ছোটো কিন্তু মানুষের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে এমন উপাদানটি বায়ুতে হ্রাস পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক রিসটোভসকি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে করোনা মহামারীর প্রকোপ শেষ হয়ে গেলে বিভিন্ন দেশ সচারচার কর্মকান্ডে ফেরত যাবে। পরিবেশের দূষণের ব্যাপারটি আবার অবহেলিত হবে। এবং অধিকতর বায়ুদূষণ হবে।

হার্ভাড ইউনিভার্সিটির গবেষকগন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০০০ প্রশাসনিক বিভাগে পরিচালিত গবেষনায় কোভিড-১৯ এবং বাতাসে অধিক হারে PM2.5 পার্টিকেলের উপস্থিতি বরং মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে প্রমান পেয়েছেন।

দীর্ঘ সময় মানুষের বায়ুদূষণের সম্মুখীন হওয়া,ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার, পাওয়ার জেনারেশন, পাওয়ারের গৃহে বা শিল্পে ব্যবহার ইত্যাদি কারনে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৮০ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরন করে থাকে।
মোঃ শফিকুল আলম
মোঃ শফিকুল আলম

লেখক পরিচিতিঃ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।

(Visited 3 times, 1 visits today)