করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন যিনি

বিল্লাল বিন কাশেম: করোনা সংক্রামনের ভয়ে বিশ্ব যখন ভীত, তখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করছেন, তিনি রাশিয়ায় এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

পরিসংখ্যানও পুতিনের দাবির পক্ষেই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হওয়ায় ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে রাশিয়া।

চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে জানুয়ারিতে প্রথম ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলেও বিস্ময়করভাবেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন একেবারেই কম।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ রাশিয়ায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩০৬ জন।

এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মাত্র একজনের।

রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে পুতিনের কৌশল কাজে দিয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের এ বিষয়ে একমত। এ সপ্তাহে পুতিন বলেছেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে পেরেছে তার দেশ। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, চীনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পরপরই সচেতন হয়ে যায় রাশিয়া।

৩০ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে ২৬শ’ মাইলের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় তারা। মুহূর্তেই কোয়ারেন্টিন জোন গড়ে তোলে পুতিনের সরকার।

করোনা ঠেকাতে রাশিয়ার এই কৌশল কাজে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে জোর দিচ্ছে বেশি বেশি পরীক্ষার ওপর।

রাশিয়ায় সংস্থাটির প্রতিনিধি ড. মেলিতা ভোজনোভিস বলেছেন, আক্ষরিক অর্থে এই পরীক্ষার কাজই জানুয়ারির শেষে শুরু করে রাশিয়া।

একই সঙ্গে সীমান্ত বন্ধে পদক্ষেপ নেয় তারা। তিনি বলেন, পরীক্ষা এবং করোনায় আক্রান্তদের শনাক্ত, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখার কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এটিই করেছে রাশিয়া।

অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় খুব দ্রুত গতিতে করোনার পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ব্যাপক হারে এই কার্যক্রম চালু করে তারা।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা অর্থ্যাৎ একজন থেকে আরেকজনের দূরে রাখার ব্যাপারটিও এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এখানেও শক্ত পদক্ষেপ ছিল রাশিয়ার। বিমানবন্দরে বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেয় দেশটি।

তবে বিপদ দেখা দেয় ইতালি থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে। এই দেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের ওপর তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় ছড়াতে থাকে ভাইরাসের সংক্রমণ।

তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয় বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

অবশ্য পুতিন কিংবা সরকারি কর্তৃপক্ষ করোনা নিয়ন্ত্রণের খবর দিলেও দেশের মধ্যেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আক্রান্ত ও মৃতের তথ্যের সত্যতা নিয়ে কথা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস।

উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে।

তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী এটিকে মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রাণঘাতী ভাইরাস কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ মানুষ। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯০ হাজার।

ঢা/তাশা

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )