করোনায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়ালো

  •  
  •  
  •  
  •  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। রহস্যজনক প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে চীনসহ গোটা বিশ্বজুড়ে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১০৮ জনে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি।

নতুনভাবে এ ভাইরাসে সংক্রমিত ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এদিকে রোগের বিস্তার রোধে চন্দ্র ও চীনা নতুন বছরের জাতীয় ছুটি আরও তিন দিন বর্ধিত করলো দেশটির সরকার।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে প্রাণঘাতী এই রহস্যময় করোনা ভাইরাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, ‘করোনা ভাইরাস’ মূলত ভাইরাস গোত্রের বৃহত্তর অংশ। সংস্থাটি এর নামকরণ করেছে ২০১৯-এনকভ।

সারাবিশ্ব থেকে উৎপত্তিস্থল উহান ও হওয়েই প্রদেশকে বিচ্ছন্ন রাখলেও সংক্রমণ ঠেকাতে পারেনি চীন সরকার। উল্টো বাড়ছেই লাশের সাড়ি।

এরই মধ্যে ৯৭৬ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। সন্দেহভাজন আক্রান্ত এর সংখ্যা দাড়িয়েছে আরও প্রায় সাত হাজার মানুষ।

এরই মাঝে রোগের বিস্তার মোকাবেলায় চান্দ্রবর্ষ ও বসন্তকালীন আরও তিন দিন বাড়িয়েছে দেশটি।

ভ্রমণ, চলাচল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত হয়েছে নতুন বিধিমালা। ভাইরাস নির্মুলে চলছে গবেষকদের পরীক্ষা- নিরীক্ষা।

গবেষকরা জানান, মানব শরীর থেকে ভাইরাসটির নমুনা আলাদা করা হয়েছে। নিবিরভাবে এর বংশ বিস্তার নিরূপণ করছেন গবেষকরা।

এর পরবর্তী ধাপ হবে টিকার প্রয়োগ। ভাইরাসটির ওপর নতুন আবিষ্কৃত টিকা কতটা কার্যকরী তা শীঘ্রই প্রয়োগের মাধ্যমে শনাক্ত ও নিশ্চিত কার যাবে বলে জানিয়েছে গবেষকেরা।

শঙ্কার বিষয় হলো প্রতি মূহুর্তে রুপ পাল্টাচ্ছে করোনা ভাইরাসে উপসর্গ। আর এটাই ভাইরাসটির সবথেকে শক্তিমালী জায়গা বলে জানান দেশটির অধ্যাপক ও গবেষক।

জানা যায়, নতুন তথ্যানুসারে মানব শরীরে মিশ্রিত তরল থেকে সংক্রমিত হচ্ছে এটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চীনাদের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারসমূহ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জরুরী সেবাদানকারী চিকিৎসকগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও (WHO)।

চীনসহ করোনা ভাইরাসের স্বীকার অন্যান্য দেশেও নিজেদের পরিজনদের সুরক্ষার পাশাপাশি নজর দিতে হবে চিকিৎসকদের প্রতি। কারণ তারাই সবথেকে বেশি সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় রোগীর পাশে বেশি সময় থাকে। তা না হলে রোগ নিরাময় এর স্থানেই নতুন করে আবির্ভুত হবে এ রোগের প্রাদুর্ভাব।

চীনের বাইরে ১৪টি দেশে ছড়িয়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস ‘করোনা’। এখন পর্যন্ত সেসব দেশের ৫০ জনের কাছাকাছি মানুষের শরীরে সেটা শনাক্তও হয়েছে।

চীন ছাড়াও ইতোমধ্যে হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ম্যাকাউ, নেপাল, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, কানাডায় এ ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করা গেছে।

আর তাই চীন থেকে নাগরিকদের সরাতে এবং জননিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে অনেক দেশ।

সকর্তকার পাশাপাশি বাতিল করা হচ্ছে ভিসাও।

এদিকে এক চীনা নাগরিক সর্দি-জ্বর নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চীনে করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত প্রায় ১০৮ জন মারা গেছে।

বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক করোনা ভাইরাসের কোনো আলামত তার শরীরে আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ ভাইরাস যাতে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশেও বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানোসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে ওই চীনা নাগরিকের সর্দি-জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেল।

করোনা ভাইরাস ইস্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি, প্রতিরোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশিদের আপাতত চীন ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে চীন থেকে কাউকে না নিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যদি কেউ আক্রান্ত শনাক্ত হয় তবে তার চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা অন্য সব রোগীর থেকে আলাদা করে দেয়া হবে।

চীনে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চীনের উহান শহর থেকে বাংলাদেশিসহ কাউকেই বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না সরকার।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, বেইজিং-এ বাংলাদেশিদের ২৪৫ সদস্যের একটি চ্যাটিং গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা খায়রুল বাসার এবং আসিফ।

চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিচলিত না হয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার জন্য সবাইকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন খোলা হয়েছে। নম্বরটি হলো- (86)-17801116005.

করোনা ভাইরাসের বিস্তারের আশঙ্কায় এই শহরের বাসিন্দাদের অন্য কোথাও চলে যাওয়া কিংবা শহরে কাউকে আসতে দেয়াও হচ্ছে না।

ইতিমধ্যেই সরকারীভাবে চীনের উহানসহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দু’কোটি মানুষকে শহর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।

এছাড়া উহান শহরে গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।দেশটিতে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

রহস্যজনক প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে চীনসহ গোটা বিশ্বজুড়ে। এরইমধ্যে দেশটির উহানে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে প্রয়োজনে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার জন্য এরই মধ্যে চীন সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চীনের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে আমরা এরইমধ্যে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা-সংক্রান্ত সব প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি।

তিনি জানান, চীন থেকে যাদের ফিরিয়ে আনা হবে তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সরকার সতর্কতা জারির ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়।

ঢা/তাশা

জানুয়ারি ২৮, ২০২০ ৩:৪৭

(Visited 48 times, 1 visits today)