করোনার পরীক্ষা যেখানে, যেভাবে হয়

  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাস্থ্যকথা : সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত একটি বহুল আলোচিত রোগ। এটি মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন পশু, বিড়াল, উট ও বাদুড়ের মধ্যে দেখা যায়।

পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বর্তমানে শনাক্তকৃত বেশির ভাগ রোগী উহান শহরের একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুর বাজার থেকে আক্রান্ত হয়েছে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীত না হয়ে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রদত্ত পরামর্শ মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে সরকার।

সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে ফোন করলে তারা বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন।

হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের নম্বরটিও (১৬২৬৩) এখন থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ব্যবহৃত হবে। বাকি ১২টি নম্বর আইইডিসিআরের।

সর্দি-কাশির ১০-৩০ শতাংশ হয় করোনা ভাইরাস দিয়ে। ২০০৩ সালের সার্স করোনা, পরবর্তীকালের মিডল ইস্টের মারস করোনার মতোই আরেক করোনা এবারের উহানের (চীন) নভেল করোনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটির নাম দিয়েছে কোভিড-১৯।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য রোগীর যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নিয়ম হল, এ পরীক্ষার জন্য রোগীর লালা, শ্লেষ্মা বা কফ সংগ্রহ করতে হবে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করার পর তা সংরক্ষণ করা হবে স্টেরাইল টিউব বা ভায়ালে।

এরপর সেই টিউব অতিমাত্রায় শীতল করে বরফের বাক্সে ভরে পাঠানো হয় ল্যাবরেটরিতে, যাতে নমুনা ন’ষ্ট না হয়।
নমুনা এমন ল্যাবে পাঠাতে হবে, যেখানে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ টেস্ট কিট আছে। বাংলাদেশে আইইডিসিআরে এ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ল্যাবে নমুনা পৌঁছানোর পর হবে পরীক্ষার ব্যবস্থা। এ পরীক্ষার নাম আরটি-পিসিআর বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন। আর নমুনায় করোনা ভাইরাস বুঝতে ব্যবহার করতে হবে বিশেষ রি-এজেন্ট।

আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে, রোগীর নমুনায় যদি করোনা ভাইরাস থেকে থাকে, তাহলে এ পরীক্ষায় তার সংখ্যা বাড়বে। ফলাফল আসবে ‘পজেটিভ’।

আইইডিসিআর তখন সেই নমুনা পাঠাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ফের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য। এ পরীক্ষার ফলাফল পেতে ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে।

নমুনা আনার পর অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটা যায়। আরএন এক্সট্রাকশন করতে হয়। সেখান থেকে পিসিআর মেশিনে দিয়ে সেটা রান করাতে হয়।

আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষে পরীক্ষাটি শেষ করতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে নমুনা হাতে পাওয়ার ওপর। আরটি-পিসিআরের প্রতিটি পরীক্ষায় যে টাকা খরচ হচ্ছে তা আপাতত তারাই বহন করছে।

আগে পরীক্ষার ফলাফল জানতে ৩-৪ দিন লাগলেও এখন ২-৩ ঘণ্টায় পরীক্ষার ফল পাওয়া যাচ্ছে। অন্য অসুখ থাকলে জটিলতা সন্দেহ করলে তাও পরীক্ষা করা দরকার হবে।

এ ছাড়াও করোনাভাইরসে আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগীদের জন্য রেফারেন্স হাসপাতাল হিসেবে দেশের কয়েকটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

যে হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা করানো হয় সেগুলো হলো-

মুগদা জেনারেল হাসপাতাল (মুগদা),

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল (উত্তরা),

মহানগর জেনারেল হাসপাতাল (নয়াবাজার),

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (মহাখালী) ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল (কুর্মিটোলা)।

হাসপাতালগুলোতে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে করোনার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চিকিৎসা কাজে ব্যবহারের জন্য মজুদ রাখা হয়েছে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও রোগ প্রতিরোধী পোশাক।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের হটলাইন ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০৯১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪ ও ০১৯২৭৭১১৭৮৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাল্টিসেক্টরাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে এক বা একাধিক সুবিধাজনক স্থানে যেমন- স্কুল, কলেজ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দেশবাসীকে বড় বড় জনসমাগমস্থলগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জ্বর, কাশি থাকলে সম্ভব হলে ভ্রমণ বাতিল করা যেতে পারে।

রোগটি যাতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

ঢা/তাশা

মার্চ ১০, ২০২০ ১১:৫০

(Visited 19 times, 1 visits today)