করোনায় চট্টগ্রামে নমুনা জট ও চিকিৎসা সংকট

চট্টগ্রাম
  •  
  •  
  •  
  •  

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিন বেড়েই চলছে চট্টগ্রামে। চাহিদা থাকলেও নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ কিছুতেই বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে শয্যার সংখ্যাও বাড়েনি সেভাবে। প্রতিদিন নমুনা দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ায় যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে আক্রান্তরা। করোনায় পজিটিভ হওয়া অনেক রোগীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে!

চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী তার বিপরীতে হাসপাতালগুলোতে শয্যা আছে মাত্র ৩৯০টি! ফলে বেশিরভাগ রোগীকেই নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগী শনাক্ত হলেও এর মধ্য শুধুমাত্র ৮ থেকে ১০ জন রোগীকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সরকারের নির্দেশনা থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলো নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু করার কথা থাকলেও ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও ইউএসটিসির বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়নি।

করোনা চিকিৎসায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে রেলওয়ে হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর মধ্যে সবার আগে এগিয়ে এসেছে মা ও শিশু হাসপাতাল ও হলি ক্রিসেন্ট। কিন্তু সেখানে শুধুমাত্র ১৭০টি শয্যা বাড়ানোর কথা রয়েছে যা চট্টগ্রামে রোগীর সংখ্যার তুলনায় খুবই কম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ২৬ মে চট্টগ্রামের দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে কোভিড-১৯ হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে চিকিৎসা সেবা চালুর নির্দেশ দেয়। কিন্তু এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও হাসপাতাল দুটি এখনো পর্যন্ত চালু হয়নি। হাসপাতাল দুটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব দেখিয়ে নানা কৌশলে চিকিৎসা সেবা চালুর বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল দুটি।

চট্টগ্রামে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নমুনা সংগ্রহও। কিন্তু সে অনুপাতে কমছে না নমুনাজট। প্রতিদিন তিনটি ল্যাবে জমা পড়ছে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ নমুনা। আর তিন ল্যাবের মাত্র ছয়টি আরটি-পিসিআর মেশিনেই চলছে নমুনা পরীক্ষা। সক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ পরীক্ষা করে যাচ্ছে ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত ল্যাব বিআইটিআইডি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ল্যাবে। অন্যদিকে কক্সবাজার ল্যাবেও পাঠানো হচ্ছে কিছু কিছু নমুনা তারপরেও নমুনাজটের চিত্র বদলায়নি একটুও।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি ল্যাব ও চমেক ল্যাব মিলে প্রায় দুই হাজারের অধিক নমুনা আটকা পড়ে আছে। নমুনা দেয়ার এক সপ্তাহ সময় পেরিয়ে গেলেও ফলাফল পাচ্ছেনা অনেকেই। একই সাথে নতুন করে বাড়ছে নমুনা সংগ্রহের হার। সেই কারণে নমুনা জট নতুন কোন ল্যাব স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা নেই।

চট্টগ্রামবাসী আশা প্রকাশ করেছিল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু হলে এই নমুনা জটের চিত্র কিছুটা হলেও কমে যাবে। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ কিটের কারণে পিছিয়ে গেছে সেই ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এই মুহূর্তে চট্টগ্রামবাসী একটি আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। করোনা উপসর্গ দেখা গেলেও অনেকেই ঘরে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই এই সংকট মোকাবেলায় জরুরি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম।

ঢা/ডিআই/আরকেএস

জুন ৫, ২০২০ ৭:৩৩

(Visited 23 times, 1 visits today)