করোনাময় ঈদ উৎসব

ঢাকা১৮ প্রতিবেদক : অন্যরকম এক ঈদ এলো এবার। মুসলিম বিশ্বেই ঈদের এই রূপ ও আভা প্রায় পুরোটাই যেন ম্লান। ঈদগাহ ময়দান ছিল খা খা, হয়নি কোলাকুলি। মসজিদে ঈদের নামাজে ঢুকে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। তবে ঈদের মূল যে নির্যাস অর্থাৎ বিশ্বশান্তি কামনা, তার কোন কমতি হয়নি।

বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অন্য বার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা দেখা যায়নি।

প্রতিবছর ঈদের নামাজের পর হাসিমুখে কোলাকুলির এই দৃশ্য দেখা গেলেও এবার সেই দেখা মিলছে না। এক মাস রোজা রাখার পর খুশির ঈদ এলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা নিরানন্দ হয়ে গেছে। ঈদের খুশির বদলে মানুষের মনে আতঙ্ক আর নানা দুশ্চিন্তা ভর করেছে।

বায়তুল মোকাররমের মুসল্লি হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের দিন এমন হবে কোনোদিন ভাবিনি। রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু ঈদের সেই আমেজ কোথাও নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। কবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব তার কোনো ঠিক নেই।

ভাইরাস ছড়ানো যাবে না। তাই বাড়িতেই থাকতে হবে সবার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদের খাবার আর ঈদি পাওয়ার আনন্দে মাতবে না শিশুরা। হবে না বেড়ানো, তা যে কারোরই ক্ষেত্রে।

চান্দ্রবর্ষের ঈদ আগেও এসেছে, এবারও এলো, ভবিষ্যতেও আসবে। নতুন দিন আসবে, তা বিদায়ও নেবে। তবে মনষ্কামনা একটাই, দ্রুত রোগমুক্তি হোক এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের।

এদিকে, রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ শারিরীক দূরত্ব এবং করোনা ভাইরাস পরিস্থিতর জন্য অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই এই জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

ঢা/কেএম

(Visited 6 times, 1 visits today)