করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন এবং বিপনন

Photo source: Alamy Photo
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ শফিকুল আলমঃ করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন তৈরী এবং বিপনন কিভাবে হবে? এ বছরেই সকল দেশ ভ্যাকসিনের আওতায় না-ও আসতে পারে।

ভ্যাকসিন আবিষ্কারক দেশগুলোর সরকারসমূহ, বিজ্ঞানীগন এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে কিভাবে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তৈরীকৃত ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচটি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য রিজার্ভ রাখতে হবে কি-না তা’ও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী একশ’টির ওপর দেশ ভ্যাকসিন তৈরীর চেষ্টা করছে। অন্তত আটটি দেশে মানবদেহে অলরেডি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে Moderna এবং Pfizer ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়ারও রয়েছে।

Jonson & Jonson, AstraZeneca এবং Sanofi ইত্যাদি ফার্মাসিউটিকাল জায়ান্টস তাদের নিজস্ব বা পার্টনার কোম্পানির শত শত মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন তৈরীর ক্যাপাসিটি অর্জনের চেষ্টা করছে।

দ্রুত ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং প্রয়োগের নিমিত্বে সকলেই একটা দৌড়ের ওপর রয়েছে। হোয়াইট হাউজ এবং ট্রাম্পের ব্যস্ততা বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়। দ্রুত টেষ্টিং এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হোয়াইট হাউজ তহবিল সরবরাহে এক পায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমেরিকা এই শরতেই ভ্যাকসিনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়।

একটি নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারই কোভিড-১৯ প্রতিরোধের একমাত্র উত্তম ব্যবস্থা। শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ছোঁয়াছে এই নতুন করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন তৈরীতে পাবলিক হেলথ অফিসিয়ালস এবং ওষুধ প্রস্তুতকারকগন সাধারন সময়ের থেকে অনেক দ্রুততম সময়ে কাজ করার আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তথাপি যারাই দ্রুততম সময়ে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সক্ষম হবে তাদের কেহই গ্যারান্টি দিতে পারছেনা যে তাদের ভ্যাকসিন শতভাগ নিরাপদ এবং কার্যকর হবে। সময়ের দ্রুততা এখানে একটা সীমাবদ্ধতা এবং ঝুঁকি তৈরী করছে মাত্র। বিজ্ঞানীরা সফলতার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। Pfizer এবং Mederna অবশ্য পুরোপুরি নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করেছে। এই টেকনোলজি ইতোপূর্বে আর কখনো ব্যবহারের অনুমোদন ছিলোনা।

Photo source: Northwell Health
Photo source: Northwell Health
ক্লিনিকাল টেষ্টিং-এ ভ্যাকসিনের প্রয়োগ নিরাপদ এবং কার্যকর প্রমানিত হলেই প্রস্তুতকারকগন মনে করে ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন অতি দ্রুত সময়ে উৎপাদন এবং ব্যবহারের অনুমতি দিবে।

এফডিএ যেমন জরুরী ভিত্তিতে ১ মে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীকে Remdesivir ড্রাগ দেয়ার অনুমোদন দিয়েছিলো যখন বিজ্ঞানীরা বললেন যে Remdesivir ড্রাগ রোগীর হাসপাতালে অবস্থানের সময়কাল কমাতে সাহায্য করে।

এফডিএ মুখপাত্র বলেন কোভিড-১৯ এর কার্যকর ভ্যাকসিনের আবিষ্কার, উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে যথাযথ নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা যারা সাধারনত ড্রাগ এবং ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে থাকে তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে। বেশ কয়েকটা ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২১ এর পূর্বে সর্বত্র ভ্যাকসিন পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে হয়না।

পাবলিক হেলথ অফিসিয়াল এবং ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞগন মনে করেন একাধিক ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফলে প্রয়োজনীয় ডোজেজ যেমন উৎপাদন হবে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকবে; তবে আগামী বছরের মধ্যে।

আটলান্টার ইমোরী ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন সেন্টারের এ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ওরেন-স্টেইন বলেন যে অনুমতি প্রাপ্তির পর পরই পৃথিবীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডোজের প্রয়োজন এবং প্রত্যাশা সাত থেকে আট বিলিয়ন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির সাথে সাথে পুরো আমেরিকার জনগনকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনায়নও সম্ভব হবেনা।

এই যে প্রাথমিক সরবরাহের সীমাবদ্ধতা আমাদেরকে বলে দিচ্ছে এবছরেই সকল দেশ ভ্যাকসিনের আওতায় আসতে পারবেনা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যেমন J & J , Moderna এবং Sanofi ইউএস ফেডারেল গ্রান্টস নিয়ে কাজ করছে। অতএব সংগত কারনেই উৎপাদনের একটা অংশ আমেরিকানদের জন্যই রিজার্ভ রাখতে হবে।

বিশ্বব্যাপী ননপ্রফিট অর্গানাইজেশন এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেজ ইননোভেশন মূলত প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিন সমহারে বন্টন করে থাকে এবং তারা ভ্যাকসিন ডেভলপ করার জন্য নোভাভ্যাক্সকে ৩৮০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

ইউএসএ সরকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন সিদ্ধান্ত গ্রহন করে কোথায় নতুন তৈরীকৃত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে এবং কোন্ গ্রুপ প্রথম ভ্যাকসিনের আওতায় আসবে। স্টেট হেলথ অফিসিয়ালগন প্রচলিত নেটওয়ার্কে (চাইল্ডহুড ভ্যাকসিনেশন প্রগ্রাম) এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর সুপারভিশনে প্রাইভেট হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহের কথা ভাবছে।

Photo source: Financial express
Photo source: Financial express
ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালের ভ্যাকসিন এডুকেশন সেন্টারের ডিরেক্টর পল অফিট বলেন ভ্যাকসিনের আওতায় কারা কোথায় থাকবে এরকম একটি লাইন আঁকা হলে প্রথমে থাকবে হেলথকেয়ার কর্মীগন, তারপরে যারা গ্রোসারীতে কাজ করছেন, ফার্মেসী, ফুড সাপ্লাই এবং মাস-ট্রানজিট ওয়ার্কার।

জনসন এন্ড জনসন তাদের ভ্যাকসিনের একটি ব্যাচ ২০২১ এর প্রথম ভাগে প্রত্যাশা করছে এবং এই ব্যাচ দ্বারা পৃথিবীর সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনায়ন করতে পারবে বলে মলে করছে।

Moderna সুইস উৎপাদনকারী Lonza এর সাথে যৌথভাবে এ বছরের শেষ দিকে প্রতি মাসে ১০ মিলিয়ন ডোজেজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের এবং বছরে এক বিলিয়ন ডোজেজ উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে। সুতরাং পুরো বিশ্ব হয়তোবা এ বছরেই ভ্যাকসিনের আওতায় না-ও আসতে পারে।

মোঃ শফিকুল আলম
মোঃ শফিকুল আলম

লেখক পরিচিতিঃ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।

[ঢা-এফএ]

(Visited 11 times, 1 visits today)