কমলগঞ্জে সিএনজি অটোরিক্সা চালাচ্ছে অদক্ষ চালকরা

সিএনজি অটোরিক্সা
  •  
  •  
  •  
  •  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সড়কে লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ ও কিশোর চালকরা বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছে সিএনজি অটোরিক্সা। অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা।

গত এক মাসে কমলগঞ্জে বিভিন্ন সড়কে প্রায় ১৫টি ছোট বড় সিএনজি দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ থেকে ২০ জন।

এতে যেমন ক্ষতি হচ্ছে চালকের, তেমন ক্ষতি হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক সময় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অদৃশ্য কারনে নীরব ভুমিকা পালন করছে। যার কারনে এদের দৈরাত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানাযায়, এখানকার বেশীরভাগ সিএনজির চালকরা আগে রিকশা চালাতেন। বর্তমানে সিএনজি-অটোরিক্সা চালাচ্ছেন। তাই এদের বেশি ভাগেরই নেই লাইসেন্স, নেই গাড়ির কাগজপত্রও। নেই কোনো প্রশিক্ষণও। যার ফলে দিন দিন দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে।

আরও জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় ১৫টি প্রধান সড়ক রয়েছে। আর এই সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি ষ্ট্যান্ড। ১৬ টি ষ্ট্যান্ডের আওতায় প্রায় ২ হাজারের উপরে সিএনজি অট্রোরিক্সা গাড়ি চলাচল করছে। কোন নিয়ম কানুন ছাড়া সড়কে বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগীতা করে এসব গাড়ী চলছে।

এসব গাড়ীর বেশীর ভাগ চালক কিশোর ও অদক্ষ, হেলপাররাও শিশু। চালকের কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা লাইসেন্স নেই। অদক্ষ এসব চালকরা দেখেশুনে যানবাহন চালানো শিখলেও নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। তাদের জানা নেই ট্রাফিক আইন কিংবা সড়কের নিয়ম-কানুন।

স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করেই এসব চালকরা সড়কে নিয়মিত যানবাহন চালাচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়তই দৃর্ঘটনার কবলে পড়ে নিরপরাধ নিরীহ মানুষের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক হওয়ায় সড়কে প্রতিযোগীতা মুলকভাবে গাড়ী চালাতে গিয়ে বেশীর ভাগ দূর্ঘটনা ঘটছে।

উপজেলা সিএনজি অটো রিক্সা পরিবহন মালিক সমিতির সূত্র জানায়, উপজেলার অভ্যন্তরে চলাচলকারী সিএনজি চালকদের মধ্যে প্রায় ৮৫ ভাগ চালকের লাইসেন্স নেই, বাকি ১৫ ভাগ চালকের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।

বিভিন্ন সড়কে প্রায় ২ হাজারের ও বেশী সিএনজি চলাচল করছে কিন্তু কোন চালকেরই প্রশিক্ষণ কিংবা লাইসেন্স নেই।

সিএনজি যাত্রী আবুল কাসেম, মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমরা নিরুপায় হয়ে সিএনজিতে যাতায়াত করি। আর বেশির ভাগই কিশোর বয়সী চালক।

কমলগঞ্জ উপজেলা অটোরিকশা সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি আলমাছ মিয়া বলেন, আমরা চেষ্টা করছি চালকদের লাইসেন্সের ব্যবস্থা করে দিতে। কিছু সিএনজি মালিকরা অদক্ষ চালকের হাতে সিএনজি তুলে দেন। এটা বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০ বছরের নিচে কোন চালক লাইনে থাকতে পারবে না।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, সড়ক দূর্ঘটনার ব্যাপারে চালকদের সচেতন করতে সভা করা হচ্ছে। অদক্ষ চালকদের ব্যাপারে পুলিশী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ঢা/এসআর/আরকেএস

(Visited 11 times, 1 visits today)