কফি’র যত অজানা তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দিনের কাজ শুরুর আগে, দুপুরের খাবারের পর অথবা অলস বিকালে অভ্যাসবশতই কফি পান করার চল অনেকের ভেতরেই আছে বলে দেখা যায়।

চলতি সময়ে কফি নিয়ে যতটা হইচই ও আলোচনা হয়, আগে কখনও এমনটি শোনা যায়নি বললেই চলে।

আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ১৯৯১ সালে সারা বিশ্বে ৬০ কেজি ওজনের কফির ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল ৯ কোটি। এ বছর সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৬ কোটিতে।

কফি আসলে এক ধরনের চেরি ফল:

যে বীজগুলো চোলাই করে কফি উৎপাদন করা হয়, সেগুলো আসলে এক ধরনের ফলের রোস্ট করা বীজ, যে ফলগুলোকে কফি চেরি বলা হয়।

কফির ভেতরের মূল চেরি ফলটিতে কামড় দিলে অনেকটা ডিম্বাকার দুই ভাগ হয়ে যায় বীজটি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কফি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ৫ শতাংশ কফিতে ‘পিবেরি’ নামক একটি বীজই থাকে।

এই ‘পিবেরি’জাতীয় কফি হাতে আলাদা করা হয়। কড়া স্বাদ ও চমৎকার মিশ্রণের জন্য এ ধরনের কফি বীজ বিখ্যাত।

কোথাও কোথাও মানুষ কফি পান করে না, খায়:

মানুষ যুগযুগ ধরে কফি পান করে এলেও কোথাও কোথাও এটি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মানুষ।

নষ্ট হয়ে যাওয়া কফি চেরি দিয়ে ময়দা তৈরি করে অনেক প্রতিষ্ঠানই। এ ময়দা দিয়ে রুটি, চকলেট, সস বা কেক তৈরি করা হয়ে থাকে।

এর স্বাদ পুরোপুরি কফির মতো থাকে না; বীজের জাতের ওপর নির্ভর করে এর স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

বিষ্ঠা থেকে তৈরি কফি হতে পারে অনেক দামি!

‘সিভেট’ নামে স্তন্যপায়ী এক ধরনের বিড়াল অথবা হাতি- পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কফি এ দুই প্রাণীর যে কোনো একটির পরিপাকতন্ত্র হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়।

‘কোপি লুয়াক’ এক ধরনের কফি, যা সিভেট নামক এক ধরনের ইন্দোনেশিয়ান স্তন্যপায়ী বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয়।

বিড়ালের পরিপাকতন্ত্র দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে কফি চেরিগুলো গাঁজানো হয়, পরে সেগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়।

ওই ধরনের কফির ৫০০ গ্রামের দাম হতে পারে ৭০০ ডলার (প্রায় ৬০ হাজার টাকা) পর্যন্ত।

তবে বর্তমানে এ ধরনের কফিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছে ব্ল্যাক আইভরি কফি। হাতে আলাদা করা কফি চেরি খাওয়ার পর থাইল্যান্ডের হাতিদের বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয় এ জাতের কফি।

ব্লেক ডিঙ্কিন নামে একজন কানাডিয়ান আবিষ্কার করেছিলেন এ ব্ল্যাক আইভরি কফি।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ গ্রাম পরিমাণ ব্ল্যাক আইভরি কফির মূল্য প্রায় ৮৫ ডলারের কাছাকাছি।

কফি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো:

কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এগুলো আমাদের দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠেকাতে সাহায্য করে।

এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণায় উঠে আসে যে, দিনে অন্তত তিন কাপ কফি পান করলে হার্ট অ্যাটাকসহ অনেক জটিল রোগের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা সম্ভব।

১৬ বছর ধরে ইউরোপের ১০ দেশের পাঁচ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে চালানো হয় ওই গবেষণাটি।

কফির ক্যাফেইন উপাদানটি মানুষের সতেজতা ও ক্রীড়া তৎপরতা বাড়াতে সাহায্য করে।

তবে অতিরিক্ত পরিমাণেও নয়:

স্নায়ু উত্তেজক হিসেবে, অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্যাফেইনের কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও দেখা যায়।

গর্ভবতী অবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে আনা ভালো। শিশু জন্মের সময় কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়ার সঙ্গে ক্যাফেইন গ্রহণের উচ্চমাত্রার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।

অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইনের কারণে গর্ভপাত হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।

ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, একজন গর্ভবতী নারীর দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কফি (এক মগ পরিমাণ ফিল্টার কফি বা দুই মগ ইনস্ট্যান্ট কফি) পান করা উচিত নয়।

কফি বীজ দুই ধরনের হয়:

ইথিওপিয়ায় জন্ম নেয়া কফিগাছ থেকে পাওয়া কফিকে বলা হয় অ্যারাবিকা।

এ ধরনের কফি সাধারণত মিহি, হালকা ও সুবাসযুক্ত হয়ে থাকে। এ জাতের কফির দামও অপেক্ষাকৃত বেশি হয়ে থাকে এবং বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ কফিই এ জাতের।

স্বাদে কিছুটা তিতকুটে এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন সমৃদ্ধ আরেক ধরনের কফি হল রোবাস্টা।

এ ধরনের কফি সাধারণত ইন্সট্যান্ট কফি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু এলাকায় এবং ব্রাজিলে সাধারণত এ ধরনের কফি জন্মায়।

ইথিওপিয়ায় ছাগলের মাধ্যমে আবিষ্কার হয়েছিল কফি!

কিংবদন্তি অনুযায়ী, নবম শতকে কালদি নামের একজন ছাগল পালক প্রথম তার ছাগলদের বেরি জাতীয় গাছ থেকে ফল খেতে দেখে। পরে সে লক্ষ্য করে যে তার ছাগলগুলো সারারাত না ঘুমিয়ে পার করে দেয়।

একদল সন্ন্যাসীকে তার পর্যবেক্ষণ জানানোর পর ওই ফল থেকে পানীয় তৈরি করে তারা; উদ্দেশ্য ছিল সারারাত জেগে প্রার্থনা করা।

প্রথম ক্যাফেগুলো ছিল মধ্যপ্রাচ্যে:

কফি যে শুধু ঘরেই উপভোগ করা হতো, তা কিন্তু নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে কফির দোকানগুলোকে বলা হতো কাহভেহ খানেহ।

ওইসব কফির দোকান পরে দৈনন্দিন আড্ডা, জমায়েতের জায়গা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তবে সবচেয়ে বেশি কফি পান করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মানুষ:

আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার মতে, ফিনল্যান্ডের অধিবাসীরা গড়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কফি পান করে থাকেন।

ফিনল্যান্ডের একজন ব্যক্তির বছরে গড় কফি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ১২ কেজি।

এ ছাড়া নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের মানুষের গড় কফি গ্রহণের পরিমাণ বছরে ৯ কেজির ওপর। ডেনমার্ক ও সুইডেনের অধিবাসীরাও বছরে গড়ে ৮ কেজির বেশি কফি গ্রহণ করে থাকেন।

চা না কফি?

আপনার দেশে কোনটি জনপ্রিয়- চা না কফি? ব্রিটিশ কফি অ্যাসোসিয়েশনের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় কফি। প্রতিদিন বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি কাপ কফি পান করা হয়।

কিন্তু সমীকরণটা কি আসলেই এত সহজ?

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ- ভারত আর চীন। কফির চেয়ে চাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে কফি জনপ্রিয়; তবে এশিয়া মহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে আর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে চাই এখনও বেশি সমাদৃত।

ভূগোলবিদ ডেভিড গ্রিগ তার ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রকাশনায় উল্লেখ করেন যে চা ও কফির এই দ্বন্দ্ব মেটাতে ওজন দিয়ে নয়, কত কাপ চা বা কফি পান করা হল সেই বিবেচনায় হিসাব করা প্রয়োজন।

তার মতে, তুলনাটা করা উচিত কত লিটার চা বা কফি পান করা হল সেই হিসাবে।

কারণ ওজনের হিসাবে প্রতিবছর পৃথিবীতে যেই পরিমাণ চা পান করা হয়, তার চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি কফি পান করা হয়।

কিন্তু এক কাপ চা বানাতে ২ গ্রামের মতো চা-পাতা প্রয়োজন হলেও এক কাপ কফি বানাতে প্রায় ১০ গ্রাম কফি বীজ প্রয়োজন হয়।

এ হিসাব অনুসারে, তার মতে- এক কাপ কফির সমানুপাতিক হতে পারে তিন কাপ চা।

ঢা/তাশা

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )