ওরা আমার মায়ের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।

  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েম খান: ১৯৫২ থেকে ২০২১। ভাষা কাড়াকাড়ি তো চলছেই। ভাসা ভাসা বাংলা আর ইংরেজি, সাথে কিছু কিছু হিন্দি-উর্দ্দুর মিশেলে আমরা এক গুরুচন্ডালি ভাষায় কথা বলি। ভাষার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা দেখতে পাই এই ফেব্রুয়ারী মাসেই। বাকী সময় যে লাউ সেই কদু।

আমি মায়েদের শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখেই একটা কথা বলছি। বাংলাকে আমরা মায়ের ভাষা বলি। কথাটা কিন্তু খাসা। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের মায়েরা কি আদৌ বাংলা ভাষায় কথা বলেন? হিন্দি সিরিয়ালের নেশায় বুদ হয়ে থাকা বাংলার মায়ের ভাষায় বাংলা ভাষার শুদ্ধাচার কতটুকু তা সন্দেহাতীত।

ইদানিং বাংলা ভাষার বাক্যে ও শব্দে চলে এসেছে অশ্লীলতা। একটা বাক্য বলি। “অই মাম্মা, ল যাইগা।” এখানে এই ভাষার প্রয়োগকারী হল সদ্য যৌবনে পদার্পিতরা। এই বিকৃত ভাষার উৎস হল আকাশ সংস্কৃতি। যাকে সুশীল সমাজ অপসংস্কৃতি বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন।

ভাষার সঠিক প্রয়োগ হয় লেখনিতে। সেই লেখার হাতগুলো কমে যাচ্ছে বাংলা সাহিত্য চর্চ্চা থেকে। সাহিত্যের মাধ্যমেই একটি জাতির কাছে ভাষার কদর বাড়ে। সেই সাহিত্যের চর্চ্চা আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে আজ। আজ চর্চ্চার জায়গাটি দখল করে নিয়েছে গেমস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কবিতাও টি-২০ ফরমেটে চলে এসেছে। অনু কবিতা, অনুগল্প নামে ফেসবুকে এক ধরনের লেখার প্রচলন দেখছি যার শব্দ ২০ শব্দে বাধা। ২০ শব্দে আপনাকে গল্প লিখতে হবে। বাংলা সাহিত্যের যে দৈন্যদশা চলছে তাতে বাংলা সাহিত্য আরো ১০০ বছরেও নোবেল বিজয় করতে পারবে বলে আমার মনে হয়না। নোবেল বিজয়ের জন্য আরেকজন রবীন্দ্রনাথ কোথায় পাব আমরা?

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও মায়ের ভাষার প্রাধান্য কতটুকু বেড়েছে তাও প্রশ্নাতীত। ইউনিকোডে বাংলা শব্দ ভান্ডার এখনো পরিপূর্ণ নয়। গুগল ট্রান্সলেটরের এলগরিদম এখনও অনেক বাংলা শব্দের সঠিক অর্থ সঠিকভাবে বুঝেনা। পৃথিবীতে ইংরেজী বা অন্য ভাষার লক্ষ লক্ষ ফন্টের উদ্ভাবন হলেও বাংলা ভাষার ফন্ট উদ্ভাবন যৎসামান্য।

৫২ থেকে আজ অবধি বাংলাভাষার মিষ্টতা কেড়ে নিতে চাইছে কোন এক জুজুর ভূত। সালাম, বরকতেরা রক্ত দিয়ে সেই ভূতেদের ঠেকালেও এ প্রজন্ম জুজুর ভূতেদের সাথে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে নিশ্চিন্ন করছে মায়ের ভাষার প্রকৃত রুপ।

লেখক পরিচিতিঃ সায়েম খান, কলামিষ্ট ও সাংবাদিক।

ঢা/আইএইচই

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ ৫:৪৬

(Visited 32 times, 1 visits today)