এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

তামহিদ তানিম রহমান: গত কয়েকমাসে আমরা COVID-19 বা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত এই মারাত্মক ভাইরাসের পরিণতি পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমরা অনেকেই ভাবছি, এই ভাইরাস সংক্রমণের জন্য চীনারা দায়ী, তবে বাস্তবতা হল সবকিছুই আল্লাহ করছেন এবং তিনি যা কিছু করেন তা আমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক।

চীনাদের যে খাদ্যাভ্যাস তাতে তাদের খাদ্যতালিকায় সাপ ব্যাঙ কেচোর মত অনেক প্রাণীই আছে। আর এসব খাবারের অভ্যাস তাদের পূর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত। তাহলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ বহুকাল আগে থেকে কেন ছড়ায়নি? সুতরাং চাইনিজদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে সেই গুজব থেকে তাদের দায়মুক্ত করা উচিত।

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

আমরা সকলেই করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। একশত ছিষট্টিটি দেশ লকডাউন, সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর মিছিল, সামাজিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক মন্দা, এবং করোনাভাইরাস পরবর্তী যে আশঙ্কা সেটি হলো বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষ। এতো গেলো করোনাভাইরাসের নেতিবাচক দিক।

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

তবে এর কিছু ইতিবাচক দিক নিয়েও চিন্তা করছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক দল।

করোনভাইরাস আক্ষরিক অর্থেই আমাদের অনেকর জীবন বদলেছে, কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর নীচে দেওয়া হয়েছে;

করোনাভাইরাসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গোটা পৃথিবী ও মানবসভ্যতার যে পরিবর্তন আসবে তাতে আগামী প্রজন্ম কিছু সুফল ভোগ করবে। নিচে এর সুফলতার কিছু ধারণা দেয়া হলো।

১। সমগ্র পৃথিবীর মানবজাতি হোম কোয়ারেন্টাইন কালচারে অভ্যস্ত হচ্ছে। এ যেন প্রাচীনকালের গুহামানবদের কথাই প্রকৃতি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আরও বেশি সময় কাটাচ্ছি। আপনি কি কখনও এই সময়টি পরিবারের সাথে কাটাতেন যদি এই করোনভাইরাস সংক্রমণ না হতো?

২। হোম কোয়ারেন্টাইনের ফলে আমরা আমাদের বাড়িতে থেকে আমরা কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে দিয়েছি। যানবাহন ব্যবহৃত হচ্ছে না। আপনি কি জানেন, গাড়ির ধোঁয়া নিঃসরণ গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এক্ষেত্রে গ্লোবাল ওয়ার্মিং হ্রাস পাচ্ছে।

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

এছাড়া করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে বেশিরভাগ দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে দিয়েছে। আপনি কি জানেন, এই উড়োজাহাজের চালিকা শক্তি হিসাবে কতটা ফুয়েল ব্যবহার করতে হয়? আপনি যদি তা না জানেন তবে গুগলে অনুসন্ধান করুন এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য আমাদের উড়োজাহাজগুলি কতটা দায়ী তা যাচাই করুন।

বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন চলমান পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে তবে মেরু অঞ্চলের আইসক্যাপগুলি গলা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আমাদের সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি পাবে না এতে ভূপৃষ্ঠের অনেক উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

হাজার বছর ধরে মেরু অঞ্চলে বরফের নীচে অনেক মৃতপ্রানী অক্ষত অবস্থায় ঢাকা রয়েছে যাদের দেহে অনেক অনাবিষ্কৃত অচেনা জীবানু বিদ্যমান। যা কিনা বরফ গলার কারনে ঐসকল জীবাণু পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে কিন্তু আশার কথা হলো করোনাভাইরাসের আক্রমণে পৃথিবীতে মানুষের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়াতে কলকারখানা ও প্রযুক্তিগত কাজ যা পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ বলে উল্লেখিত তা মোটামুটি স্থবির। তাই মেরু অঞ্চল আবারো কঠিন বরফে ঢাকা পড়ছে যা কিনা বৈশ্বিক উষ্ণতা রক্ষায় এক অপরিসীম ভূমিকা পালন করবে।

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

আর একটি বিষয় হলো, পৃথিবীর অনেক লোক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী আহার হিসেবে খেত তবে এখন করোনাভাইরাস সম্পর্কে তারা এতটাই ভয় পেয়েছে যে সম্ভবত এই প্রাণীগুলিকে হত্যা করা এবং তাদের খাওয়ার কথা এরপর আর ভাববেও না।। ফলস্বরূপ আমাদের অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বিলুপ্তির হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

এখন আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার দিকে নজর দেওয়া শুরু করেছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে সাবান ব্যবহার করে হাত ধুয়ে নিচ্ছি, আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখছি যেখানে ক্ষতিকারক জীবানু থাকতে পারে। এক্ষেত্রে মানুষ কেবল করোনভাইরাস থেকে নয় বরং আরও অনেক রোগ বালাই থেকেই রক্ষা পাবে।

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19
যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রকৃতির কাছে ব্যর্থ ও নিঃস্ব হয়ে যায়, তখন বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য মানবমনে স্রষ্টার নাম জপ করা ছাড়া আর কিছুই আসে না। মানুষ তখন অদৃশ্যের ইশারায় মুক্তির পথ খোঁজে। এতে মানুষের মাঝে ধর্মের প্রভাব পড়ে। মানুষ হয়ে যায় অতিমাত্রায় ধার্মিক। একজন মুসলমান হওয়ার কারণে আমি, আমার পরিবার এমনকি পুরো সমাজে ধর্মীয় প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।

আমার দৃষ্টিকোণে থেকে বলছি, আল্লাহ দেখিয়েছেন যে পৃথিবীতে সবাই সমান; অর্থবিত্ত যাই থাকুক, আপনি ভূমন্ডল এবং সৌরমন্ডলের যেখানেই আপনি পালিয়ে বেড়ান না কেন আল্লাহ চাইলে আপনার মৃত্যু অবধারিত। কারণ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

আর তিনি এটাও দেখিয়েছেন যে, আমাদের ধ্বংস করার জন্য তার বড় কিছুর দরকার নেই; একটি ছোট মাইক্রোস্কোপিক ভাইরাসই আমাদের জন্য যথেষ্ট। যেটাকে আমরা দেখতে, স্পর্শ করতে বা গন্ধ নিতেও পারি না।

সুতরাং আমরা সকলেই সতর্কতা অবলম্বন করি এবং সংক্রমণ রোধের নিয়মগুলি মেনে চলি।

এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি দিচ্ছে COVID-19

ভাইরাসে ভীত ও আতঙ্কগ্রস্থ না হয়ে ভাইরাসের স্রষ্টাকে ভয় পাওয়া উচিত। যে স্রষ্টা আমদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
আপাতদৃষ্টিতে এই সময়টিকে বিপজ্জনক মনে হলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয়ই এর সুফল পাবে।

তামহিদ তানিম রহমান

লেখক পরিচিতি: তামহিদ তানিম রহমান, গ্রেড ৯, সাউথ ব্রীজ স্কুল, উত্তরা, ঢাকা

ঢা/আরকেএস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )