এক্সট্রাকশন ও বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি!

এক্সট্রাকশন ও বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি!
  •  
  •  
  •  
  •  

রেজাউল করিম খান: ইন্ডিয়ান এক গ্যাংস্টারের ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে আসে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর এক মাফিয়া গ্যাং। তাকে উদ্ধার করার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ভাড়া করা হয় একদল মার্সেনারি। এরপর মার্সেনারি দলের সেই গ্যাংস্টারের ছেলেকে উদ্ধার করার ঘটনার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হলিউডের সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া মুভি এক্সট্রাকশন।

যার পুরোটা সময় জুড়েই ছিলো প্রচুর একশন। একশন থ্রিলার ঘরানার এই চলচ্চিত্র কাহিনী, সিনেমাটোগ্রাফি, গ্রফিক্স, স্টারকাস্টিং সব দিক দিয়েই প্রথম সারিতে রয়েছে, হলিউডের প্রথম সারির চলচ্চিত্র গুলো যেমন হয়ে থাকে। এজন্যই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশসহ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তাই নি:সন্দেহে বলা যায় চলচ্চিত্রটি সত্যিই একটি অনবদ্য সৃষ্টি! কিন্তু যখন কোন চলচ্চিত্রে অযথাই একটি দেশকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হয় তখন সেটি যত বড় সৃষ্টিই হোক না কেন তা সমালোচনার যোগ্য। এক্সট্রাকশন মুভির পুরোটা কাহিনী জুড়েই ছিলো বাংলাদেশকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা সুক্ষ্ম প্রচেষ্টা, যা সত্যিই নিন্দনীয়।

তো চলুন দেখা যাক কিভাবে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।

বাংলাদেশ শান্তির দেশ এবং বাঙালীরা শান্তিপ্রিয় জাতি। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে মৌলবাদ, উগ্রবাদের মতো বড় সমস্যাগুলো নেই। জঙ্গীবাদ মাফিয়ারাজত্বের মতো সমস্যায় বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো যখন নাকাল অবস্থায় আছে আমরা বাংলাদেশীরা তখন এসব সমস্যা না থাকায় শান্তিতেই আছি। কিন্তু এরকম একটা দেশকেই যখন উগ্রবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরা হবে, মাফিয়াদের আস্তানা হিসেবে প্রচার করা হবে, দেশের শান্ত রাস্তাগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ দেখানো হবে তখন সত্যিই তা দৃষ্টিকটু ও গ্রহনের অযোগ্য।

এরপর যে নেতিবাচক দিকটি উঠে এসেছে তা হলো আমাদের দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অতি দূর্বল ও অক্ষম হিসেবে তুলে ধরা। চলচ্চিত্রটিতে প্রায় শুরুর দিক থেকেই দেখা যায় মাত্র একজন মার্সেনারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আমাদের শেষ সম্বল এলিট ফোর্সকে খুব সহজেই নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে।
এরপর সেই মার্সেনারির গ্রুপের বাকি সদস্যরা আসার পর তো সেনাবাহিনীর পুরো এক ব্যাটালিয়ন সৈন্যই মেরে সাফ করে ফেলে। এছাড়া এর আগে পুলিশবাহিনী আর এলিট টিমকে এক মার্সেনারির প্রতিহত করার দৃশ্যগুলো দেখে মনে হবে আপনি কোন সুপারহিরো মুভি দেখছেন। কারণ হলিউডের সুপারহিরো মুভিগুলোতে এসব দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের গর্ব। অন্যান্য অনেক দেশসহ জাতিসংঘও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সমীহ করে। এই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈন্যরাই সাহসীকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবছর জাতিসংঘের ডাকে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন বিপদসংকুল মিশনে যাচ্ছেন নিজের জীবনের পরোয়া না করেই। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের কর্মদক্ষতায় বিশ্বের প্রথম সারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে স্থান পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠেছে।

এমন একটা বাহিনীসহ বাকি সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধুমাত্র একজন ভাড়া করা মার্সেনারি দিয়ে প্রতিরোধ করার কাহিনী সত্যিই হাস্যকর। তাই পরাবস্তব বা অতিপ্রাকৃত হিসেবে চলচ্চিত্রটির কাহিনী গ্রহনযোগ্য হলেও হতে পারে।

এক্ষেত্রে একটা কথা থাকতে পারে যে চলচ্চিত্র তো কাল্পনিক, এর সাথে বাস্তবের মিল কেন খোঁজা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বলতে গেলে কাল্পনিকতার একটা সীমা থাকা উচিত, আসীম কাল্পনিকতা শুধুমাত্র নিজ মনেই আবদ্ধ রাখতে হয়। সেই সীমাহীন কাল্পনিকতার উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রের কাহিনী তৈরি করে তার মাধ্যমে একটি দেশকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন হলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রি থেকে কখনোই কাম্য নয়।

সবশেষে, এক্সট্রাকশনকে কল্পকাহিনীর যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করলেও এই চলচ্চিত্রটি বর্জনীয় কারণ এটি নি:সন্দেহ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

ঢা/আরকেএস

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ ৩:২২

(Visited 62 times, 1 visits today)