উপেক্ষিত পোশাক শ্রমিক সব সময় বলির পাঠা

উপেক্ষিত পোশাক শ্রমিক সব সময় বলির পাঠা
  •  
  •  
  •  
  •  

মুক্তমত ডেস্ক: মা, বাবা, স্নেহের ছোট ভাই, ভাই ও ভাবি। আশা করি তোমরা সবাই আআল্লাহর রহমতে ভাল আছো। দোয়া করি আল্লাহ্ যেন তোমাদের সবাইকে সুখে রাখে। ক্ষুধার যন্ত্রণা আর পেটের তাগিদে গত ১৫ মার্চ তারিখে ঢাকা চলে আসি, সাথে ছিলো সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। নতুন চাকরি ও নতুন বিয়ের যেন গন্ধ শুকায়নি। ২২ মাচ থেকে করোনার প্রকোপ যেন বাড়তে থাকে। ২৬ তারিখ থেকে সাধারন ছুটি ঘোষনা করা হয়। সবাই দেশের বাড়ি গেলেও আমার যাওয়া হয়নি।

না যাওয়ার পিছনে অনেকগুলা কারন আছে। এক আমার জন্য আমার পরিবারের ক্ষতি না হওয়া দুই আমার জন্য এলাকার লোকের ক্ষতি না হওয়া। ৪ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানা খোলা হবে বলে সব ঢাকায় নিয়ে এসে পরে ছুটি বধিত করে এ যেন পোশাক শ্রমিককে নিয়ে একের পর এক নাটক চলতে থাকে।

চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই পায়ে হেটে আসে। বন্ধ করা হয় আরেক দফা পরবর্তিতে ২৬ এপ্রিল বেশির ভাগই ফ্যাক্তরি খুলে দেয়া হয় শর্ত সাপেক্ষে। তার পর শুরু হয় সিনেমার আরেক অংশ এপ্রিল মাসের বেতন ৬০%। সরকার তার কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাসের পর মাস সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছে আর আমরা গার্মেনটস শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখছি। অথচ সরকারী কর্মচারী পাচ্ছে ১০০% বেতন বোনাস আর আমরা পাচ্ছি ৬০%।

কেনো যানি মনে হয় আমরা বাংলাদেশি নাকি রহিঙ্গা (আমরা গার্মেনটসের শ্রমিক)।

ঈদ আসছে, শুনেছি ঈদের ছুটি 7 দিন কিন্তু কোন শ্রমিক কে বাড়ি যেতে দেওয়া হবে না, সরকারী ভাবে নিষেধ আছে। মরার আগে তোমাদের সাথে দেখা করতেও দিবেনা আর যদি সত্যিই করোনায় মারা যাই তাহলে আমার লাশটাও দেখার কপাল হয়তো তোমাদের হবেনা। আমি যেন একটা জিন্দা লাশ, অপেক্ষায় আছি কখন যেন করোনা ছোবল দেয়!গত ১৫ মার্চ ই হয়তো ছিলো তোমার আমার শেষ দেখা, আর দেখা হবে কিনা জানিনা। তাই আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও।

ধিক্কার জানাই এই অব্যবস্থাপনাকে যেখানে একই দেশের নাগরিক একদল সুবিধা পাবে অন্যদল খেটে মরবে। কি অদ্ভুত নিয়ম কি অদ্ভুত বৈষম্য। আমাদেরকে দিয়ে দেশের চাকা ঠিক রাখবে অবমুল্যায়ন করবে অথচ সুবিধা পাবে অন্যজন। এই জন্যে কি দেশ স্বাধীন হয়েছিল?

আজকে আমাদের আর্তনাদ কেউ শুনছেনা একদিন তোমরাও কাঁদবে কিন্তু সেদিন তোমাদের কথা কেউ শুনবেনা।

লেখক: আবির হোসাইন শাহিন।
সাংবাদিক ও লেখক
আবির হোসাইন শাহিন

ঢা/আরকেএস

মে ১৯, ২০২০ ৭:২৭

(Visited 14 times, 1 visits today)