উপন্যাস- অনুরণন!

লেখক: বিল্লাল বিন কাশেম কবি, গল্পকার ও সংবাদ বিশ্লেষক ডিজিটাল ডায়রি

অনুরণন!

এক.

জার্মান ভাষা খুব ভালো বোঝে না বাপ্পী। তবে কাজ চালিয়ে নিতে তেমন অসুবিধায় পড়তে হয়নি কখনো।

এখানে সফটওয়্যার কোম্পানির সাথে কাজ করার কারণে তাকে নানা সময়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া-আসা করতে হয়েছে বহু বার।

বাভারিয়াতে থিতু হতে জার্মান ভাষা কোর্স করেছে। তবে এতেও খুব একটা যে জার্মান ভাষার উপর দখল নিতে পেরেছে তা বলা যাবে না। তবে দেশটা তার খুব পছন্দের।

জার্মানরা নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তাবৎ দুনিয়া নিয়ে তাদের ভাবনার সময় নেই। এ জায়গা থেকেই এ দেশটার প্রেমে পড়েছ সে।

পর চর্চা জার্মানিদের কাছ থেকে শুনেছে এমনটা কখনোই ঘটেনি। আত্মকেন্দ্রীক জার্মান জাতি পরোপকারীও বটে।

কেও তাদের কাছে সাহায্য চাইলে তা করতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করে না। গত চার বছর পার হয়ে গেছে জার্মানের বাভারিয়া স্টেটে।

বাংলাদেশ থেকে এসে মিউনিখ এয়ারপোর্টে নেমে শীতে যখন বাভারিয়ার দিকে ট্রেনে রওনা হয় তখন সারা পথ সাদা বরফে আচ্ছন্ন থাকে।

পাহারগুলো ধবল বর্ণ ধারণ করে অপূর্ব নৈশর্গিক দৃশ্য তৈরী করে। গ্রীষ্মকালে কিছুটা গরমে ফুল আর গুল্ম দিয়ে সাজানো থাকে পাহাড়গুলো।

এখানকার বাড়ীগুলোর জানালায় টবে ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো থাকে। জার্মানীতে গ্রীষ্মের দীর্ঘতম দিন হলো সাড়ে ষোল ঘন্টা।

রাতের অন্ধকার তার ভাল লাগলেও এখনে সূর্যের আলোই বেশিরভাগ সময় থাকে। অবশ্য শীতে বাংলাদেশ থেকে কম সময় সময় সূর্যের আলো থাকে।

এসব কিছুই মহিত করে তাকে। প্রথম সময়ে যখন বেড়াতে জার্মান আসেতো তখন পুরো ইউরোপ ঘুরে বেড়াতো।

সানজেন ভিসা নিয়ে আসার কারনে ও ইউরোপের আরো কিছু দেশে তার ক্লায়েন্ট থাকায় তাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ দিতো।

নিঃসঙ্গ একাকী সে পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরেছে। বিচিত্র মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ হয়েছে তার। তীব্র মানষিক যন্ত্রণা এড়াতে কাজে গভীর ভাবে মনোযোগ না দিয়ে দেশে ঘোরা এক সময় তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো।

তবে এখন তার মন কিছুটা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ভালবাসা ও বিশ্বাস ছাড়া সংসার হয় না এটা তার উপলব্ধি। সংসার নিয়ে মা-বাবার বকুনিঝকুনির কারণে দেশ থেকে পালিয়ে বেড়াতো সে।

সাফওয়ান আরসাল ও সামিন আহনাফ নামে দুটি সন্তানের বাবা হয়েও সংসার বৈরাগী সে। এক সময় বেঁচে থাকাও তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়েছিল।

আত্মহত্যার কথাও মাথায় এসেছে বহুবার। তবে সাফওয়ান ও সামিনের কথা ভেবে এ চিন্তা থেকে সরে এসেছে।

ছোট বেলা থেকেই খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা তার অভ্যাস। ভোরের পথম আলোতে নদীর পাড় দিয়ে হাটাহাটি করতে তার ভাল লাগে।

দেশে থাকলে জন্মস্থান চুকনগরে ভদ্রা নদীর পাড় দিয়ে হাটাহাটি তার নৈমিত্তিক কাজ ছিলো। ভদ্রা নদীটি যেয়ে মিশেছে বুড়ি ভদ্রার সাথে। তবে সে নদী ধীরে ধীরে এখন মৃত প্রায়।

কওফব্রেনের ২৮ পিটার এসেগ স্টারাবির যে বাসায় বসবাস করে তার পাশেই রয়েছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানি বেষ্টিত ডারভা নদী।

তবে নদীর গভীরতা কোথাও হাটু পর্যন্ত আবার কোথাও তারও কম। নদীর ধারে অসাধারণ নৈঃসর্গিক দৃশ্য বিদ্যমান।

আলাপাস পর্বতমালা থেকে উৎপত্তি স্থল হলেও এটি মিশেছে ইউরোপের দীর্ঘতম নদী ডারউইনের সাথে। ভোরের প্রথম আলোয় নদীর ধারে হাটতে তা অন্যরকম ভাল লাগা রয়েছে।

হাটার পরে সকলে বেলা বাড়লে গ্রোসারি শপে বাজার করে একেবারে বাসায় ফিরে। দিনে অন্য কাজ না থাকলে খুব কমই বাইরে বের হয়।

চলবে…..

লেখক: বিল্লাল বিন কাশেম

কবি, গল্পকার ও সংবাদ বিশ্লেষক এর ডিজিটাল ডায়রি

ঢা/তাশা

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )