ইডেনে নেত্রীর ছুরিকাঘাতে নেত্রী আহত

  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের হলে বহিরাগত ছাত্রী রাখাকে কেন্দ্র করে এক নেত্রীর ছুরিকাঘাতে অপর এক নেত্রী আহত হয়েছেন। আহত নেত্রীর নাম সাবিকুন্নাহার তামান্না। সে কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

শনিবার (০৯ নভেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই নেত্রীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, ‘প্রথমে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অণুর অনুসারী ছাত্রলীগ সদস্য তামান্নাসহ কয়েকজন পাঁচতলা থেকে দোতলায় আসেন রূপার অনুসারী নাবিলা ও তার বোনকে হল থেকে বের করে দেয়ার জন্য। পরে মাহবুবা নাসরিন রূপার অনুসারীরা অণুর অনুসারীদের আক্রমণ করে।

একপর্যায়ে অণুর অনুসারী ছাত্রলীগের সদস্য তামান্নার হাতে কোপ লাগে। এরপর রূপার অনুসারী নাবিলার বোনকে কোপ দেয় অণুর অনুসারীরা। নাবিলার বোন হলের বহিরাগত। তার ঘাড়ে কোপ লাগে। পরে অণুর অনুসারী আর রূপার অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার পর পরই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে বহিরাগত নাবিলাকে লালবাগ থানায় হল প্রশাসনের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়।

সংঘর্ষের বিষয়ে ইডেন কালেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপা বলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অনুর সর্মথকরা বঙ্গমাতা হলে গিয়ে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে হলের ২০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে আমার আইফোন এবং সাত হাজার পাঁচশত টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, নাবিলা নামে একটি মেয়েকে মারধর করার খবর শুনে যাই। পরে আমি সেখানে গেলে তারা আমার ওপরও হামলা চালায়।

রূপা অভিযোগ করে বলেন, ‘অণুর নেতৃত্বে মেয়েরা চায় যেন আমরা ক্যাম্পাসে না থাকি। ও (অণু) একা ক্যাম্পাসে থাকবে। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ নিয়েছে সে। ও একমাত্র মেয়ে যে বিসিএস, বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেছে। ও কিন্তু আসামি। ও একমাত্র মেয়ে যে আমাদের ক্যাম্পাসের মেয়েদের বাইরে নেয়। ও একমাত্র মেয়ে যে রাত ১২টার পরে মদ খেয়ে হলে ঢোকে এবং ইয়াবা ব্যবসা করে।’

এ বিষয়ে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অনু বলেন, ‘আমি তখন ক্যাম্পাসে ছিলাম না। ঘটনার পরে এসেছি’।

মাদকাসক্তের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তিন মাস পরপর রক্ত দান করি। আপনারা চাইলে আমার মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে পারেন।

ক্যাম্পাসে নিজের কোনো আধিপত্য নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি বিবাহিত কিনা সেটা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারির কাছে জিজ্ঞেস করেন।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। ওই ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে’।

ঢা/ এনএএইচ/

নভেম্বর ৯, ২০১৯ ৭:১৭

(Visited 2 times, 1 visits today)