আমার অদেখা রাজনীতি

আমার অদেখা রাজনীতি
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ ডেস্ক: রাজনীতির মৌলিক ধারা বজায় রাখতে নির্বাচন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। আর জনগণ সেই ভোট উৎসবের মিশ্রিত উপাদান মাত্র।

সংসপ্তক উপন্যাসে খল চরিত্র রমজান জমিদারীর ভগ্নদশায় বসে থাকা মিয়ার ব্যাটাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “বুইড়া বাঘ খালি ঝিমায়”। ব্যকরণ অনুযায়ী লিংগ পরিবর্তন করলে ঝিমায় কে তা বুঝতে কারো অসুবিধা হবেনা। দলের লিডারশীপ আজ হাইবারনেশনে আর পরবাসে।

সারেং বউ সিনেমাটি আমরা সবাই দেখেছি। জা্হাজের সারেং তার আদরের পল্লীগ্রামের বউটাকে মনে করে একটা গান গায়। ” বন্দী হইয়া মনুয়া পাখি হায়রে কান্দে, রইয়া রইয়া!” বিএনপি রাজনীতির একাধিকবার ক্ষমতার মসনদে বসা মনুয়া পাখির জন্য আর রাজপথ উত্তাল হয়না। ডালিম কুমার আজকাল সোনার কাঠি, রুপার কাঠি দিয়ে আর দূর পরবাসে কলকাঠি নাড়েনা। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নাম ধারণ করে যে দলটির যাত্রা শুরু, সেই দলটির নৈতিক স্খলনের কারনে আজ দলটি কোমাতে। গ্রেণেড হামলা, ইয়াসমিন হত্যা, খাম্বা দুনীতি সব হীরক রাজার দেশের প্রজাদের মনে পড়ে। রবি ঠাকুরের একটা কবিতার লাইন আছে, “হে অতীত, তুমি গোপনে গোপনে ঘুরিয়া বেড়াও ভুবনে ভুবনে।”

এবার আসা যাক চাচা এবং আলুর দোষ। বহুল প্রচলিত দুটি ব্যংগাত্মক শব্দ। অবশ্যই একজনের নাম মনে পড়ছে? মুচকি হাসিও চলে আসছে। আচ্ছা, দুনিয়ায় কখনো দেখেছেন কি, কোন স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর সেই সরকারের পুনরুত্থান হতে? তাহলে মুসুলিনি, হিটলার এদের অস্তিত্ব আজও মানুষ খুজে পেত। আমরা জনগণ, গণতন্ত্রের মানে ভুলে গিয়েছি। “গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক।” এই শ্লোগানটা আমরা ভুলে গেছি। নুর হোসেন, ডাক্তার মিলনদের কথা আমরা ভুলে গেছি। জনগণের বিরুদ্ধে ৭১ আর ৭৫ এর পরে কে জলপাই রঙের ট্যাংক রাজপথে নামিয়েছিল? এটাও ভুলে গেছি? আমরা আসলে অদ্ভুত একটা জাতি।

ঐক্যফ্রন্ট, খুব চলছে শব্দটা। ভাইরাল শব্দ। খুব নাচন কোদন কয়েকদিন। পিয়ারু সরদারের মোরগ পোলাও খাওয়ার পর এখন ঠান্ডা। আপ্নারা কার জন্য ঐক্যফ্রন্ট করেন? আপ্নারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটা প্রজাতি। এইযে, ডঃ কামাল হোসেন, আমি জানি এই দেশে আপনার অনেক অবদান। তার মানে এই না আপনাকে শাষক হতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে দেশের জাতীয় মুরুব্বি হোন। সবকিছুর উপরে থাকুন। আর তেতুল তত্ত্বের কথা আর নাই বা বললাম।

আওয়ামীলীগ। কি বলব। আসেন একটা গল্প বলি। মানবসভ্যতার আগে ডাইনোসরের যুগ ছিল। এদের বিলুপ্তি মুল কারণ ছিল, এরা সকল প্রজাতি খেতে খেতে একসময় নিজেরাই নিজেদের খাওয়া শুরু করেছিল। আমরা এই কথা থেকে কি বুঝলাম? যারা বুজেছেন তাদের বলা লাগবেনা। আকালমান্দকে লিয়ে ইশারা হি কাফি।

শুরুটা করেছিলাম নির্বাচন এর কথা দিয়ে। চলমান প্রক্রিয়ায় নির্বাচন নিয়ে মানুষের আশা ও প্রত্যাশা তেমন নাই। মানুষ জানে এই নির্বাচনে কি হবে। বাংলাদেশের চলমান রাজনীতির হালহকিকত যা তাতে এই নির্বাচন জনগণের আর্থ-সামাাজিক
প্রেক্ষাপটে তেমন প্রভাব ফেলবেনা। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্রিক ধারা বজায়ের জন্য এই নির্বাচন সরকার গঠনের একটি প্রক্রিয়া। সবদিক বিবেচনায় সবদলের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় এখানে কোন বিবেচ্য বিষয় না।

ঢা/এসকে/ আইএইচই

নভেম্বর ৫, ২০২০ ৯:৩৫

(Visited 111 times, 1 visits today)