আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ ডেস্ক: আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার মজুতের অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) রমনা থানায় মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আপন জুয়েলার্স বিভিন্ন সময় সাড়ে ১৩ মণ সোনা ও পৌনে ৮ হাজার পিস ডায়মন্ড কিনতে গিয়ে ১৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাচার করেছে। এতে কর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব অর্থপাচার করা হয়।

২০১৭ সালে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শাখায় একযোগে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে আপন জুয়েলার্সের ৫টি শাখা থেকে জব্দ করা হয় ৫৩৭ কেজি ৫০০ গ্রাম সোনা ও ৭ হাজার ৭৪৩ পিস ডায়মন্ড অলংকার। ওই বছরের ১২ আগস্ট আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ২টি, ধানমন্ডি থানায় একটি, রমনা থানায় ১টি ও উত্তরা পূর্ব থানায় ১টি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

আপন জুয়েলার্স অলংকার আমদানির বিপরীতে বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। অর্থাৎ শুল্ক গোয়েন্দা বলছে, অর্থপাচার করে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব অলংকার দেশে আনা হয়েছে। আর এনবিআরে দেওয়া আয়কর নথিতে তথ্য গোপন করে দেওয়া হয়েছে কর ফাঁকি।

শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই আজাদ আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও দিলদার আহমেদকে দায়ী করা হয়েছে।

আপন জুয়েলার্সের গুলশানে সুবাস্তু স্কয়ার শোরুমের মামলায় আসামি করা হয় গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে।

সেখান থেকে জব্দ করা হয় ২০৩ কেজি সোনা ও ২৮৫৯ পিছ ডায়মন্ডের অলংকার। যেখানে জব্দ করা অলংকারের বিপরীতে পাচার হয়েছে ৭৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

মৌচাক মার্কেট শো-রুমের রমনা মডেল থানার মামলায় আসামি করা হয় দিলদার আহমেদকে।

যেখানে শো-রুমটি থেকে জব্দ করা হয় ৫৪ কেজি ২শ গ্রাম সোনা ও ১৫৮০ পিছ ডায়মন্ড অলংকার। যার বিপরীতে পাচার করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকা।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ।

৬ মে রাতে ভুক্তভোগীদের একজন বনানী থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এরপরই শুল্ক গোয়েন্দা আপন জুয়েলার্সে অবৈধ অলঙ্কার জব্দ করতে অভিযানে নামে।

বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ‘অবৈধ সম্পদ’ খুঁজতে তার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে ২০১৭ সালের ১৪ ও ১৫ মে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠানটির গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান এভিনিউ, উত্তরা, সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাকের পাঁচটি শোরুমে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৫ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা সাময়িকভাবে জব্দ করা হয়।

ঢা/এমএইচ

মার্চ ২, ২০২১ ৬:৪০

(Visited 24 times, 1 visits today)