আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

নিউজ ডেস্ক: আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এই দিনে আজ থেকে ৪৮ বছর আগে সাড়ে নয়মাস দীর্ঘ কারাবাসের পর পাকিস্তান থেকে সদ্য স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলার।

দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিজ বাসা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

সেইরাতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে ধুলিস্যাৎ করে দিতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক গণহত্যা চালায় নিরস্ত্র জনগণের ওপর।

তবে গ্রেফতারের আগমুহূর্তেও কোনোধরণের আতঙ্ক ছুঁতে পারেনি শেখ মুজিবর রহমানকে।

দূরদর্শিতার সাথে তিনি তার বিশ্বাসভাজনদের সকল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যান।

একইসাথে তার বিশ্বাস ছিল দেশের সাধারণ জনগণের ওপর।

তিনি জানতেন, তাঁর দেশের সাধারণ জনগণ কেবল যুদ্ধে অংশই নেবেনা, বরং বিজয় সুনিশ্চিত করবে।

এমনকি তিনি যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, সেসময় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথা জানানো হয়, তাতেও বিন্দুমাত্র ভয় পাননি এই অকুতোভয় নেতা।

কারণ তিনি জানতেন তাঁর মৃত্যু বাঙালিদের স্বাধীনতা এনে দিতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

তৎকালীন  তৎকালীন স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে হত্যার জন্য একটা আদেশ জারি করেন।

কিন্তু মুজিব যে কারাগারে বন্দি ছিলেন সেখানকার জেলার ওই আদেশ না মেনে মুজিবকে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করেন।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তির পরপরই তিনি বাংলাদেশে ছুটে আসতে চান, ভারতের সাথে সমস্যা থাকায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোকে তেহরান বা অন্যকোনো এয়ারওয়েজ বেছে নিতে বললে তিনি  ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

লন্ডনে প্রবেশের পর বিবিসিতে তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন।

তিনি যখন ভরাট কণ্ঠে তাঁর সুস্থতার কথা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তটিতে লাখ লাখ বাঙালি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন।

তখনও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত করেন।

এসময় ব্রিটিশ বিরোধীদলীয় নেতা হ্যারোল্ড উইলসনও তাকে স্বাগত জানাতে সাক্ষাত করেন।

এরপর দিল্লিতে পৌঁছান অবিস্মরণীয় এই নেতা। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র  দেশবাসী তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেন।

এসময় তিনি  মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অনন্য ভূমিকার জন্য ভারতবাসী ও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে তিনি পা রাখেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে।

অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত লাখো লাখো বাঙালি সেই মুহূর্তে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তাদের প্রিয় নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ফিরে পেয়ে।

পুরো দেশই তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিল, তার কিছুটা চিত্র ধরা পড়ে তেজগাঁও বিমানবন্দরে। জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠা বিমানবন্দর যেন বাংলার আকাশ বাতাসকেই প্রতিনিধিত্ব করছিল।

পাঁচলাখেরও বেশি মানুষ সেই মুহূর্তে  অবিস্মরণীয় এই নেতাকে গ্রহণ করতে অংশ নিয়েছিলেন।

মহান এই নেতাকে একটু ছুঁয়ে দেয়ার জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে এক ধরণের ব্যাকুলতা কাজ করছিল।

তাঁকে বহনকারী ট্রাকটিও সেসময় ফুলে ফুলে ভরে গিয়েছিল।

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও সেই আনন্দ এতটুকুও ম্লান হয়নি। আজও দিনটিকে স্মরণ করতে দেশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচী।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং বেলা ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা।

এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং সংগঠনের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এক অনন্য দিন।

ঢা/তাশা

(Visited 1 times, 1 visits today)