আখাউড়ায় শিশু অপহরণ, মায়ের বুকফাটা অর্তনাদ

আখাউড়ায় শিশু অপহরণ, মায়ের বুকফাটা অর্তনাদ
  •  
  •  
  •  
  •  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ১৮ মাস বয়সি শিফাত মোল্লা কথা বলতে পারে না। তবে আব্বু-আম্মু ডাক শিখেছে। শিফাতকে কাছে রেখে বাবা-মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে টাকা দাবি করছে অপহরণকারি। এ বিষয়ে কাউকে জানালে শিফাতকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের শিব বাড়ি সংলগ্ন বাসায় ভাড়া থাকে শিফাতের পরিবার। বাবা শিপন মোল্লা রাজমিস্ত্রী, মা লাকী বেগম গৃহিনী। তাদের সঙ্গে এক বাড়িতে ভাড়া থাকা মো. ফারুক ও তার স্ত্রী রবিবার দুপুরে শিফাতকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে ফেরত দেয়ার বদলে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করছে অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিফাতের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে শিফাত সবার ছোট। খলিলুর রহমানের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া ফারুক ও তার স্ত্রী প্রায় ছয়-সাত মাস ধরে এখানে ভাড়া থাকেন। ফারুক শ্রমিকের কাজ করে। দুপুরে ফারুকের স্ত্রী রূপা বেগম বেশ কিছু সময় শিফাতকে কোলে নিয়ে রাখে।

এরই মধ্যে সুযোগ বুঝে ফারুক ও তার স্ত্রী সটকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তাদেরকে না পেয়ে সন্দেহ হয় শিফাতের পরিবারের। ঘরে গিয়ে দেখে দু’টি মোবাইল ফোন সেটও নেই। পরে বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয়দেরকে অবহিত করা হয়।

শিফাতের মা ছেলের কথা মনে করে বার বার কেঁদে উঠছিলেন। ছেলের চলন বলনের বর্ণনা দেন তিনি। জানান, নিয়ে যাওয়ার কয়েকঘন্টা পর ফারুক মোবাইল ফোনে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। এ সময় তিনি ফোনের অপর প্রান্তে ছেলে আব্বু আম্মু ডাক শুনতে পান। ফারুক তখন জানায়, যদি এসব বিষয় কাউকে জানানো হয় তাহলে শিফাতকে মেরে ফেলা হবে।

বাড়ির মালিক খলিলুর রহমান জানান, ফারুক তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি বলে জানিয়েছে। সে প্রায়ই নেশা করতো তবে তওবা পড়িয়ে নামাজে নিয়েছি। কিন্তু এরপরও সে এসব করতো। টাকার জন্যই সে ওই শিশুটিকে অপহরণ করেছে। পুলিশের পরামর্শে তার কথা অনুযায়ি সোনাইমুড়ির একটি দোকানের নম্বরে বিকাশে টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু আটকানোর পরিকল্পনার কথা বুঝতে পেরে ফারুক শেষ পর্যন্ত ওই দোকানে যায় নি।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, অপহরনকারিদের অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আশা করছি শিশুটিকে উদ্ধার করা যাবে।

ঢা/জেবি/আরকেএস

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০ ১০:১৩

(Visited 89 times, 1 visits today)