অস্ট্রেলিয়াতে বসন্তের প্রারম্ভে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রত্যাশা

অস্ট্রেলিয়ার বসন্ত

মোঃ শফিকুল আলমঃ কোভিড-১৯ এর অস্ট্রেলিয়ান ভ্যাকসিন সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে। অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকিয়ে দেশকে স্বাভাবিক গতিতে ফেরাতে অনুমিত সময়ের পূর্বেই এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য পাওয়া যাবে বলে গবেষকগন জানিয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের যে বিজ্ঞানীগন মলিকিউলার ক্লাম্প টেকনোলজি ব্যবহার করে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করছেন তাঁরা বিশ্বাস করেন জুলাই মাসে হিউম্যান ট্রাইল করতে সক্ষম হবেন।

গবেষনাসংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা যখন দেখতে পেলেন তাঁদের এক্সপেরিমেন্টাল ড্রাগ মানবদেহে এমনকি কোভিড-১৯ আক্রমন থেকে সুস্থ রোগীর থেকেও অধিকতর ইমিউনিটি তৈরী করছে তখন তাঁরা তাঁদের প্রতিষেধক আবিষ্কারের সময়টি এগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রোগ্রাম লীডার ট্রেন্ট মুনরো বলেছেন প্রতিষেধকের উৎপাদনও দ্রুত ভিত্তিতে এবছরেই শুরু হচ্ছে। গবেষকগন প্রত্যাশিত সময় ১৮ মাসের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন। আইনগত অনুমোদনলাভের পর সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারেই বড় আকারের উৎপাদনে যাওয়া যাবে। অধ্যাপক মুনরো বলেন সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগুলে নির্ধারিত সময়েই লক্ষ্য অর্জিত হবে।

ল্যাবরেটরী টীমের কো-লীডার কেইথ চ্যাপেল বলেন ইঁদুরের ওপর প্রিক্লিনিকাল ট্রাইল প্রত্যাশিত ফলাফলকে ছাড়িয়েছে। কেইথ আরও বলেন আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ইঁদুরের শরীরে যে পরিমান এন্টিবডি তৈরী হয় তা’ কোভিজ-১৯ আক্রান্ত সুস্থ হয়ে যাওয়া রোগীর শরীরের এন্টিবডির থেকে অনেক বেশি। সুতরাং ভ্যাকসিন ভাইরাস নিউট্রালাইজ করতে বা ভাইরাস থেকে প্রোটেকশন দিতে অধিক মাত্রায় কার্যকর।
ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বিজ্ঞানীগন; Photo source: The University Of Queensland
ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বিজ্ঞানীগন; Photo source: The University Of Queensland

বুধবারে প্রকাশিত গবেষনার ফলাফলে দেখা যায় মলিকিউলার ক্লাম্প টেকনোলোজী ব্যবহারকে টপ টায়ারের মাত্রায় সুরক্ষা দেয়। বিশ্বব্যাপী ১০০ এর ওপর দেশে একই টেকনোলোজী ব্যবহার করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডেভলপমেন্ট চলছে।

কান্তা সুব্রত ডোহারটি ইনস্টিটিউটের ইনফেকশন এন্ড ইমিউনিটি বিভাগে কাজ করেন। তিনি বলেন ইতোপূর্বে ইনফ্লুয়েন্জা বা সার্স ভাইরাস ভ্যাকসিন এনিমাল এর ওপর যে ধরনের ফলাফল দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড বৈজ্ঞানিক গবেষকদলের তৈরী ভ্যাকসিন একই ধরনের রেসপন্স করেছে।

মলিকিউলার ক্লাম্প টেকনোলোজীর লক্ষ্য হচ্ছে প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে ভাইরাসের বহিরাবরন আচ্ছাদিত করে ভাইরাসের ডিফেন্স সিস্টেম রিলিজ করা।
মলিকিউলার ক্লাম্প টেকনোলজি
মলিকিউলার ক্লাম্প টেকনোলজি

নেদারল্যান্ডস প্রি-ক্লিনিকাল স্টেইজ শেষ করে দ্বিতীয় স্টেইজে ফেরেট বা পলিক্যাট এবং হ্যামস্টারস বা ধেঁড়ে ইঁদুরের দেহে ইনজেক্ট করে লাইভ ভাইরাস দ্বারা পরীক্ষা করতে যাচ্ছে।

অধ্যাপক মুনরো বলছেন সফলতার কোনো নিশ্চয়তা ছিলোনা। কিন্তু পুরো টীম তাদের অভাবনীয় সময় এবং প্রচেষ্টায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। গবেষনায় তহবিল যুগিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক নট ফর প্রোফিট অরগানাইজেশন, কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডনেজ ইননোভেশনস এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকার। পৃষ্ঠপোষকতা করছে ‘করোনাভাইরাস এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ।’

ড: চ্যাপেল বলেন অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে যে ভ্যাকসিন কাজ করে এবং নিরাপদ এবং একই সাথে ম্যাস-প্রোডাকশনের ওপর যাতে সর্বত্র বন্টন করা যায়। মেলবোর্ন বায়ো মেডিকাল প্লান্টে হাজার হাজার লিটার ভ্যাকসিন একই সাথে উৎপাদন করা যাবে।

Professor Paul Young, Dr Keith Chappell and Dr Dan Watterson; Photo source: The University Of Queensland
Professor Paul Young, Dr Keith Chappell and Dr Dan Watterson; Photo source: The University Of Queensland

ড্রাগ স্টোরেজের জন্য বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। অর্থাৎ ইনজেক্ট করার পূর্বে সঠিক কন্টেইনারে রাখা বা পরবর্তী ক্লিনিকাল টেস্টিং এর জন্য ব্যবহার বা এ্যপ্রুভাল পর্যন্ত বা এ্যাপরুভালের পরে এথিকস মেইনটেইন করার বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

ড: চ্যাপেল আরও বলেন সহজভাবে বলা যায় মিলিয়নস অব ডোজেজ ভ্যাকসিন বাকেট ভর্তি রয়েছে। কিন্তু সতর্কতার সাথে নিরাপদে সিঙ্গল ইউজ সিরিঞ্জে প্রস্তুত করে পৃথিবীব্যাপী সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা ততো সহজ নয়।

তিনি আরও বলেন আগামী ছয় মাসের মধ্যে অনেক করনীয় রয়েছে। যেমন দেখাতে হবে ভ্যাকসিন কাজ করছে, মাত্রা নিরূপণ, ছড়িয়ে দেয়া, কিভাবে বন্টন করা হবে এবং নিরূপণ করতে হবে ভ্যাকসিন যেখানে প্রয়োজন সেখানে পৌঁছেছে।

আশাবাদ শব্দটির মধ্যে কঠিন বৈপরীত্য রয়েছে। তাই এই আবিষ্কারের আশাবাদে সতর্কতার বানী হচ্ছে যদিনা গবেষনার সকল রিসোর্সেস যথাযথভাবে পাওয়া যায় তা’হলে সফলতা নাও আসতে পারে। অনেক বৈজ্ঞানিকের সতর্ক বানী হচ্ছে করোনাভাইরাস বহুকাল ধরে বিজ্ঞানকে কৌশলে এড়িয়েছে।

মোঃ শফিকুল আলম
মোঃ শফিকুল আলম

লেখক পরিচিতিঃ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।

(Visited 1 times, 1 visits today)