অক্সিজেনের জন্য ফের হাহাকার, একবছরে কী করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮: মহামারী করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়ায় আগামী সোমবার থেকে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

লকডাউন ঘোষণার দিনেও মারা গেছেন ৫৮ জন। এদিনে আরও ৫৬৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

যখন করোনা শুরু হয় তখন আমাদের স্বাস্থ্যখাত যে কি বেহাল অবস্থা তা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছে। সামান্য কিছু করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল, অক্সিজেন ও আইসিইউর দরকার পরলেই আমাদের নাই নাই শুরু হয়ে গিয়েছিল।

খুব জানতে ইচ্ছে করে গত ১ বছরে সেই পরিস্থিতির উন্নতির আমরা কি কি পদক্ষেপ নিয়েছি। জনগণের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। অবশ্য যদি তারা জনগণের সরকার মনে করে আরকি। করোনার খারাপ অবস্থা শুরু হতে না হতেই আইসিইউ নাই, অক্সিজেন নাই আবার সেই হাহাকার। করোনা একটু ভালো অবস্থায় যাওয়া মাত্রই এর ক্রেডিট নেওয়ার জন্য কি বড় বড় কথা! ভাপরে ভাপ।

গতকালকের খবরের কাগজে ছিলো পাঁচটা হাসপাতালে ঘুরে মাকে অক্সিজেন দিতে না পেরে অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা গেল। দেখা গেছে মৃত মাকে ধরে কাঁদছে ছেলে। আরেকটু খারাপ হলে না জানি কি দেখতে হয় তাই ভাবছি। আমরা কিন্তু অনেক সময় পেয়েছিলাম।

কিন্তু সময় পেয়েও একটা বছর কি চুলটা ছিড়লাম? আমাদের সক্ষমতা কতটুকু বাড়ালাম? নাকি করোনা আর আসবে না ভেবে পয়সা বাঁচালেন। বড় রাগ হচ্ছে।

এখন আবার আমরা লকডাউনে যাচ্ছি। গতকালকেই মেডিক্যাল পরীক্ষা হলো, গতকালকেই হুজুরদের নামাজ শেষে প্রতিবাদ হলো, বই মেলা চলছে। আবার কল কারখানাও খোলা রাখার কথা বলা হচ্ছে। গতকাল আর আজকের ফারাকটা কি? কেন ঐসব বন্ধ করা হয়নি?

আরেকটি কথা বলছি। লোকডাউন যেন ছুটি মনে না করা হয়। সরকারকে এইটাও মাথায় রাখতে হবে। এই বাঙালি এইটাকেও উৎসব বানিয়ে ঈদ উৎসবের মত করে ঢাকা ছাড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে এই করোনা যদি ছোট শহরে ছড়ায় ডিসাস্টার হয়ে যেতে পারে। তাই ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না। সরকারকে বললাম আরকি।

লেখক: কামরুল হাসান মামুন 

অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

এপ্রিল ৩, ২০২১ ৫:৫০

(Visited 9 times, 1 visits today)